চার লাখ মানুষের একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই রোগী

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

চার লাখ মানুষের একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই রোগী

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী ৭:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

চার লাখ মানুষের একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই রোগী

ফেনীর উপকূলীয় সোনাগাজী উপজেলার চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন চিকিৎসক, কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যেন নিজেই রোগী। ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই, আছে শুধু বড় স্থাপনা।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অফিস জানায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসকের মোট ২১টি পদ থাকলেও বর্তমানে উপজেলায় কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। অফিস সহকারীর ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২ জন।

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৫টি পদের মধ্যে আছেন একজন। সুইপারদের ৫টি পদের মধ্যে ৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। টেকনিশিয়াল থাকলেও দীর্ঘদিন এক্স-রে মেশিনটি বিকল। গত প্রায় এক যুগ জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

বর্তমানে হাসপাতালে যে ৩ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাকেও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি রোগী দেখতে হয়। দুজন মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক) দিয়ে চরম সংকটে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে কলমে ৫০ শয্যার বলা হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে। প্রতিদিন গড়ে ৬৫/৭৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে গড়ে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে সেবা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা জসিম উদ্দিন জানান, তিনি দাঁতের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

সূজাপুর গ্রামের হাড়ভাঙা রোগী পেয়ারা বেগম চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট। সোনাগাজী উপজেলা সদরে ভালো কোনো এক্স-রে মেশিন না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে জেলা শহরের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়।

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মচারী ও যন্ত্রপাতি সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক সংকট ও এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় বিষয়ে একাধিক বার চিঠি দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চরম সংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও