রোহিঙ্গা কার্যক্রমে কে এই সৈকত বিশ্বাস?

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

রোহিঙ্গা কার্যক্রমে কে এই সৈকত বিশ্বাস?

কক্সবাজার প্রতিনিধি ১১:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯

রোহিঙ্গা কার্যক্রমে কে এই সৈকত বিশ্বাস?

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা কার্যক্রমে নানা ধরনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে সৈকত বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

জেলার স্থানীয় সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা জানান, এই সৈকত বিশ্বাস এনজিওদের পক্ষ হয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাস কার্য্যালয়কে ভুল বুঝিয়ে ব্যবহার করছেন।

একটি এনজিও সমন্বয় সংস্থার মুখপাত্র হয়ে পুরো রোহিঙ্গা কার্যক্রমে কেন এতো দাপট সেই প্রশ্ন সবার মনে।

ইন্টারসেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ নামের একটি এনজিও সমন্বয় সংস্থার এই কর্মকর্তাকে আজ রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সের জরুরি সভায়ও খবরদারিত্ব করতে দেখা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, তার বাধার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি হননি রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম।

রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জরুরি সভার যাওয়া সাংবাদিকরা জানায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পক্রিয়ার জরুরি সভার সংবাদ সংগ্রহের সময় সৈকত বিশ্বাস বারবার বাধা প্রদান করেছেন। তিনি নিজে টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য না হয়ে বারবার টাস্কফোর্সের সভায় আসা যাওয়া করেছেন। সভাশেষে সাংবাদিকরা শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামের বক্তব্য নিতে গেলে সৈকত বিশ্বাস বাধা প্রদান করেন। তিনি কমিশনার আবুল কালামকে সংবাদ মাধ্যমে কথা না বলার পরামর্শ দেন। সৈকত বিশ্বাসের পরামর্শে শরনার্থী কমিশনার আবুল কালাম সংবাদ মধ্যমে কোনো কথা বলেননি।

কক্সবাজান সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, সৈকত বিশ্বাসের কাজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওদের বিভিন্ন কাজের সমন্বয় করা। সরকারি কোনো মিটিং বা কাজে তার থাকার কথা নয়। সরকারি কাজ বা সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারি লোকজনই নিবেন।

কক্সবাজার রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি এইচ এম নজরুল বলেন, সৈকত বিশ্বাস কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন। আর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সের সদস্যও নন। রাষ্ট্রীয় জরুরি মিটিংএ তার বিচরণ সন্দেহজনক। দীর্ঘদিন ধরে মনে হচ্ছে তিনি কোনো বিশেষ মিশন নিয়ে কাজ করছে।  তার বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।

কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল বলেন, এনজিও সমন্বয় সংস্থার কর্মচারী সৈকত বিশ্বাস আজকে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান করেছেন। এছাড়াও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সে সভা নিয়ে কমিশনার আবুল কালামকে বক্তব্য প্রদানে সৈকত বিশ্বাস বাধা প্রদান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন সংশৃষ্ঠদের সাথে কথা বলবেন।

এই বিষয়ে সৈকত বিশ্বাসসের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তিনি শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কেউ নন বা টাস্কফোর্সের সদস্যও নন তিনি। ইন্টারসেক্টর কোওডিসেশন গ্রুপের সদস্য হিসেবে তিনি আরআরআরসি অফিসের একটি রুমে অফিসে করেন তিনি। আজকের টাস্কফোর্সের বৈঠক চলাকালে বৈঠকের গোপনীয়তা বজায় রাখতে তিনি কাজ করেছেন।

এছাড়া কমিশনার আবুল কালাম সাংবাদিকের সাথে কথা না বলার বিষয়ে তিনি কোনো দিকনির্দেশনা দেননি। শুধুমাত্র কমিশনার আবুল কালামের অনিহার কথা তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। এটি ভুল বুঝাবুঝি মাত্র।

এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও