সড়কে জসিম পরিবারে ৬ জনের মৃত্যু, লড়ছে শেষ প্রদীপও

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

সড়কে জসিম পরিবারে ৬ জনের মৃত্যু, লড়ছে শেষ প্রদীপও

জহির শান্ত, কুমিল্লা ১০:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯

সড়কে জসিম পরিবারে ৬ জনের মৃত্যু, লড়ছে শেষ প্রদীপও

গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন শেষে পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে কুমিল্লা শহরে ফিরছিলেন জসিম উদ্দিন। পথিমধ্যে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান জসিমসহ পরিবারটির ৬ সদস্য। বেঁচে আছে কেবল জসিমের শিশুপুত্র রিফাত (৮)।

মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

রোববার রাত ৮টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, জসিমের পরিবারের শেষ প্রদীপটিও প্রায় নিভু-নিভু।

এর আগে রোববার দুপুর ১২টায় কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাঘমারার জামতলি বাজারে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বেপরোয়া গতিতে ছুটতে থাকা যাত্রীবাহী একটি বাস বিপরিত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিতে অটোরিকশা চাপা দিলে ঘটনাস্থলে ৫ জন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর আরো তিনজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন কুমিল্লা শহরের গোয়ালপট্টি এলাকার খাবার হোটেল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন, তার মা সকিনা বেগম, জসিমের স্ত্রী শিরিন বেগম, তাদের দুই ছেলে শিপন, হৃদয় ও মেয়ে নিপু আক্তার, হোটেলের কর্মচারী সায়মন এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জামাল উদ্দিন।

নিহতরা কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার করপাটি গ্রাম থেকে কুমিল্লা শহরের গোয়ালপট্টি এলাকায় ফিরছিলেন। তারা গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের ঘোড়া ময়দানে ঈদ উদযাপন করে করপাটির বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে শহরে ফিরছিলেন।

জসিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই নাসির উদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, জসিম উদ্দিন কুমিল্লা শহরের গোয়ালপট্টি এলাকায় বন্ধন হোটেল নামে একটি হোটেল চালাতেন। হোটেলের পাশের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। দুর্ঘটনায় তার পরিবারের ৬ সদস্য নিহত হওয়ায় এখন শুধুমাত্র একজন (রিফাত) বেঁচে আছেন। তার অবস্থাও গুরুতর। সে রাজগঞ্জ এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়ে।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জসিমের অপর দুই ছেলে শিপন ও হৃদয় বাবার হোটেলেই কাজ করতো। মেয়ে নিপু আক্তার কুমিল্লা হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঘটনাটি মর্মান্তিক। বাসটি সড়কের বাঁ পাশে দিকে থাকার কথা; কিন্তু বাসটিকে আমরা ডান পাশে দেখতে পাচ্ছি। এখানে এসে জানতে পেরেছি, বাসটি বেপরোয়া গতিতে একটি ট্রাককে ওভারটেক করছিল। এ সময় বাসটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। অটোরিকশাটির পেছনে একটি মাইক্রোবাস ছিল। ফলে অটোরিকশাটি দুইটি গাড়ির মাঝে পড়ে চ্যাপটা হয়ে গেছে।

বিকেলে এ প্রতিবেদকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয় নিহত জসিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই নাসির উদ্দিনের।

পরিবর্তন ডটকমকে তিনি জানান, ‘লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছি। এশার নামাজের পর জসিম ভাইয়ের পরিবারের ৬ জনকে ঘোড়া ময়দানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

জেডএস/এইচআর

আরও পড়ুন...
কুমিল্লায় বাসচাপায় আটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত
কুমিল্লায় বাস-আটোরিকশা দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও