‘ভুল চিকিৎসায়’ গর্ভের দুই সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

‘ভুল চিকিৎসায়’ গর্ভের দুই সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ১১:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৯

‘ভুল চিকিৎসায়’ গর্ভের দুই সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ‘ভুল চিকিৎসায়’ গর্ভের দুই সন্তানসহ রত্মা বেগম (২৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলা ‘তিতাস ইউনিটি হাসপাতাল’ নামে এক বেসরকারি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রত্মা ওই উপজেলার পাড়াতলি গ্রামের জামির মিয়া জাকিরের স্ত্রী। এই ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের পারিবারিক থেকে দেওয়া মামলার এজাহার সূত্র জানা যায়, পাড়াতলি গ্রামের জামির মিয়া জাকিরের স্ত্রী রত্মাকে শুক্রবার সকালে প্রসববেদনা উঠলে তিতাস ইউনিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়ে যাওয়ার পর রত্মাকে সেখানে ভর্তি করানোর জন্য বলেন হাসপাতালের মালিক মো. এমরানুল হক ওরফে আশেক এমরান। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর রত্মার শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার গর্ভে দুই সন্তান রয়েছে বলে জানানো হয়।

হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, মো. জাহিদ নামে এক চিকিৎসক এসে রত্মার সিজারিয়ান করবেন। তবে সকাল থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ ডা. জাহিদ হাসপাতালে না আসায় জানতে চাইলে এমরান জানান কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবেন। বিকাল ৪টার দিকে এমরান ও হাসপাতালের নার্স নাছরিন আক্তার মিলে রত্মাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যান।

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ডা. জাহিদ অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর তার কাছে রত্মার শারীরিক অবস্থার খবর জানতে চাইলে রত্মা সুস্থ আছেন বলে জানান তিনি।

এরপর এমরান অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে বের হয়ে জামিরকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে বলেন রত্মাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে।

পরবর্তীতে এমরান, ডা. জাহিদ ও নার্স নাসরিন রত্মাকে মৃত অবস্থায় অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে বের করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেন বলে অভিযো করেন রত্মার স্বজনরা।

জামির মিয়া জাকির সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ভুল চিকিৎসা করে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

তবে এ ব্যাপারে তিতাস ইউনিটি হাসপাতালের মালিক মো. এমরানুল হক ওরফে আশেক এমরান ও চিকিৎসক মো. জাহিদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে বন্ধ পাওয়া গেছে।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা কাউকে পাওয়া যায়নি। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও