কলেজছাত্র ইকরাম হত্যায় দুই ভাই গ্রেফতার

ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

কলেজছাত্র ইকরাম হত্যায় দুই ভাই গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৯:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৯

কলেজছাত্র ইকরাম হত্যায় দুই ভাই গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কলেজ ছাত্র মো. ইকরাম হোসেন (১৭) হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি মো. শিমুল (২৮) ও তার ছোট ভাই সোহাগ মিয়া (২৪)-কেগ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

বুধবার বিকেলে জেলার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

তারা দুইজন জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বারজীবিপাড়ার মৃত রবিউল্ল্যাহর ছেলে।

বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা সাংবাদিকদের সামনে প্রধান দুই আসামি মো. শিমুল ও তার আপন ছোট ভাই সোহাগকে হাজির করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের ও সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথ।

গত রোববার সকালে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বারজীবীপাড়ায় খালাতো বোনের বাসার খাটের নিচে থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় কলেজছাত্র ইকরামের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে ওই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে ও সরাইল সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সরাইল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় আসামি ইমরানুল হাছান সাদী (১৯), নাজিম উদ্দিন (৫৫) ও নাজমা বেগম (৪০)কে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরমধ্য থেকে আসামি ইমরানুল হাছান সাদী ওই ঘটনায় স্বেচ্ছায় আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপরই বের হয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খালাতো বোন লাভলী আক্তারের স্বামী প্রবাসী হওয়ায় মো. ইকরাম হোসেন ছোটবেলা হতে খালাতো বোনের বাড়িতে অবস্থান করে পড়ালেখা করে আসছিল। লাভলী আক্তারের মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিন ও ভিকটিম মো. ইকরাম হোসেন উভয়ে সরাইল ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করতো। সুমাইয়াকে প্রতিবেশী শিমুল প্রায় সময় ইভটিজিং করতো। এসব বিষয়ে ইকরাম প্রতিবাদ করতো।

গত প্রায় ১০ মাস আগে সুমাইয়া ইয়াসমিনকে ইভটিজিং করাকালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসামি শিমুলকে আট মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এসময় ইকরাম উপস্থিত ছিলেন। গত ঈদুল ফিতরের আগে সাজাপ্রাপ্ত শিমুল জেল হতে ছাড়া পায়। ভিকটিম ইকরামের ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদী। আগে কোনো এক সময় তার ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদীকে মারধর করেছিল বিধায় ইকরামের প্রতি তার ক্ষোভ থেকে যায়। অপর দিকে মো. শিমুল ইভটিজিংয়ের ঘটনায় কারাভোগের কারণে ভিকটিমের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। ইমরানুল হাছান সাদী মাঝে মধ্যে ইকরাম হোসেনের সাথে রাতে ঘুমাতো।

গত ২/৩ মাস আগে ইকরামের ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদী ও মো. শিমুল স্থানীয় বিলের মধ্যে মিলিত হয়ে ভিকটিম মো. ইকরাম হোসেনকে খুনের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনামতে গত ১০ আগস্ট রাতে ইমরানুল হাছান সাদী ইকরামের সাথে ঘুমানোর জন্য বাড়িতে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে ভোররাত ৩টার দিকে ইমরানুল হাছান সাদী ঘরের দরজা খুলে দিলে মো. শিমুল ও তার ভাই সোহাগ দা, ছুরি, বস্তাসহ ঘরে ঢুকে। ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদী ভিকটিমের পা চেপে ধরে, অপরদিকে মো. শিমুল ও সোহাগ দা, ছুরি, ঘরে থাকা বটি-দা দিয়ে ভিকটিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় বেঁধে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ভোরের আলোর কারণে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যায়।

এআর/এইচআর

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও