উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল কলেজ ছাত্রের

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল কলেজ ছাত্রের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ২:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল কলেজ ছাত্রের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মোঃ ইকরাম হোসেন(১৬) নামের এক কলেজ ছাত্রের হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। গত রোববার সকালে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বারজীবীপাড়ায় খালাতো বোনের বাসার খাটের নিচে থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইকরাম ওই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে ও সরাইল সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সরাইল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত আসামী ইমরানুল হাছান সাদী (১৯), নাজিম উদ্দিন (৫৫) ও নাজমা বেগম (৪০) গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এরমধ্য আসামী ইমরানুল হাছান সাদী (১৯) ইকারাম হত্যায় নিজেকে জড়িয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপরই বের হয়ে আসে হত্যাকান্ডের রহস্য।

মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, খালাতো বোন লাভলী আক্তারের স্বামী প্রবাসী হওয়ায় মোঃ ইকরাম হোসেন ছোটবেলা হতে খালাতো বোনের বাড়ীতে অবস্থান করে পড়ালেখা করে আসছিল। লাভলী আক্তারের মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিন ও ভিকটিম মোঃ ইকরাম হোসেন উভয়ে সরাইল ডিগ্রী কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করতো। সুমাইয়াকে প্রতিবেশী মৃত রবিউল্ল্যাহর ছেলে শিমুল প্রায় সময় ইভটিজিং করতো। এসব বিষয়ে ইকরাম প্রতিবাদ করতো।

গত প্রায় ১০ মাস আগে সুমাইয়া ইয়াসমিনকে উত্ত্যক্ত করার সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ইসরাত আসামী শিমুলকে পেনাল কোড ৫০৯ ধারায় আট মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এক মাস পূর্বে সুমাইয়াকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে । বর্তমানে সে তার শশুর বাড়ীতে অবস্থান করছে। গত ঈদ-উল-ফিতরে সুমাইয়াকে উত্ত্যক্তকারী সাজাপ্রাপ্ত শিমুল জেল হতে ছাড়া পায়।

ভিকটিম ইকরামের ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদী। আগে কোন এক সময় তার ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদীকে মারধর করেছিল বিধায় ইকরামের প্রতি তার ক্ষোভ থেকে যায়। অপর দিকে মোঃ শিমুল ইভটিজিংয়ের ঘটনায় কারাভোগের কারণে ভিকটিমের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। ইমরানুল হাছান সাদী মাঝেমধ্যে ইকরাম হোসেনের সাথে রাতে ঘুমাতো।

গত ২/৩ মাস আগ থেকে ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদী ও মোঃ শিমুল স্থানীয় বিলের মধ্যে মিলিত হয়ে ভিকটিম মোঃ ইকরাম হোসেনকে খুনের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট রাতে ইমরানুল হাছান সাদী ইকরামের সাথে ঘুমানোর জন্য বাড়িতে যায়।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে, ভোররাত ৩টার দিকে ইমরানুল হাছান সাদী ঘরের দরজার সিটকারী খুলে দিলে মোঃ শিমুল ও তার ভাই সোহাগ দা, ছুরি, বস্তাসহ ঘরে প্রবেশ করে। ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদ ভিকটিমের পা চেপে ধরে অপর দিকে মোঃ শিমুল ও সোহাগ দা, ছুরি, ঘরে থাকা বটি দা দিয়ে ভিকটিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের লাশ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় বেধে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু ভোরের আলো ফুটায় তারা লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যায়।

এআর/জেডএস/

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও