খুঁটির বদলে গাছেই বিদ্যুৎলাইন, ঝুঁকিতে জনসাধারণ

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

খুঁটির বদলে গাছেই বিদ্যুৎলাইন, ঝুঁকিতে জনসাধারণ

প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৯

খুঁটির বদলে গাছেই বিদ্যুৎলাইন, ঝুঁকিতে জনসাধারণ

রাঙ্গামাটি শহরের কলেজগেট-টিটিসি এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ত্রুটির অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার এক ব্যবসায়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ও যেনতেনভাবেই কাজটি সম্পাদন করছে। এতে করে যেকোনো সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে রাঙ্গামাটি শহরে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের অধীন শহর এলাকায় ১১ কেভি লাইনের উন্নয়নের কাজ হাতে নেয়া হয়। কাজটি হাতে পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর-ই-এলাহি অ্যান্ড ব্রাদার্স।

এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। গত ২২ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১১ কেভির লাইনের কাজ করা হয়। এসময় শহরের বিভিন্ন সকাল আটটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি শহরের কলেজ গেট-টিসিটি মোড় দিয়ে নামার আগেই বৃষ্টি হার্ডওয়্যার নামে একটি দোকান রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে একটি বয়স্ক আমগাছ। এই গাছের মাঝখানের ডালপালা কেটে গাছের মাঝ দিয়ে টেনে নেয়া হয়েছে ১১ কেভির বিদ্যুৎলাইনের তার।

লক্ষ্য করে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক স্ট্যান্ডগুলো বসানো হয়েছে কেটে ফেলা গাছের ডালে। ডালের সাথে বৈদ্যুতিক স্ট্যান্ডগুলো বেঁধে রাখা হয়েছে হালকা জিআই তার দিয়ে। এতে করে ভারী বাতাসে যেকোনো সময় তার ছিড়ে স্যান্ডগুলো নিচে পড়ে পথচারী হতাহতের আশঙ্কায় রয়েছে। অন্যদিকে ভারী বাতাসে বৈদ্যুতিক তারের সংঘর্ষে ভয়াবহ আগুনের আশঙ্কাও রয়েছে।

টিটিসি এলাকার ব্যবসায়ী বৃষ্টি হার্ডওয়্যারে সত্ত্বাধিকারী পাভেল দাশ মালিক বলেন, ‘আমার দোকানের ওপরে এই আমগাছটি। তারা যখন গাছের ডাল কেটেছিল, তখন সেটি খুব ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাটছিল। আমি পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমত গাছটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাটা হয়েছে এবং গাছের মধ্যদিয়ে যেভাবে ১১ কেভির লাইন স্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ।’

আরেক ব্যবসায়ী বিপ্লব গুপ্ত বলেন, ‘পিডিবি আমগাছটি সম্পূর্ণ কেটে বৈদ্যুতিক খুঁটি দিয়ে সোজাসুজিভাবেই কাজ করতে পারত। এখন গাছের ভেতর দিয়ে করাতে অনেকটা ঝুঁকি বেড়েছে। যেকোনো সময় বৃষ্টি-বাদলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা (পিডিবি) যেভাবে গাছের ডালে বৈদ্যুতিক স্ট্যান্ডগুলো তার দিয়ে বেঁধে রেখেছে, এতে করে গাছের ওপর চাপ পড়ছে। অন্যদিকে এর পাশেই একটি বহুতল ভবন রয়েছে।’

ওই এলাকার বাসিন্দা রকি চাকমা বলেন, ‘গাছের ওপর এবং গাছের মধ্যদিয়ে যেভাবে বিদ্যুতের সংযোগের তার নেয়া হয়েছে তা বিপজ্জনক। এভাবে পিডিবি কাজ করতে পারে না। তারা এটা অন্যায় করেছে।’

টিসিটি এলাকার ব্যবসায়ী লিটন দে জানান, ‘প্রতিবছরই বজ্রপাত হলে গাছের সাথে এই লাইনে আগুন ধরে। যেভাবে ১১ হাজার কেভির লাইন দিয়েছে, এখন প্রবল বাতাস এলে গাছের সাথে বৈদ্যুতিক তার লেগে যাবে। এতে করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।’

কাজের ত্রুটির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটি বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এটি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। এই কাজটি তারাই দেখভাল করছেন।’

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

কাজের প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন্ত কুমার দেবনাথ পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা চট্টগ্রামেই মূলত অফিস করি। রাঙ্গামাটিতে তেমন যাওয়ার সুযোগ হয় না। জরুরি কাজ থাকলে যাওয়া হয়। যেহেতু কাজের ত্রুটির বিষয়টি জেনেছি, এ ব্যাপানের অবশ্যই তদারকি করব।’

এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও