ফেসবুকে প্রেম, ‘সম্ভ্রম’ খুইয়ে বিপাকে তরুণী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফেসবুকে প্রেম, ‘সম্ভ্রম’ খুইয়ে বিপাকে তরুণী

আবুল হাসনাত মো. রাফি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৯

ফেসবুকে প্রেম, ‘সম্ভ্রম’ খুইয়ে বিপাকে তরুণী

ফেসবুকে পরিচয়। পরিচয় সূত্রেই প্রেম, ঘনিষ্ঠতা। বছরের বেশি সময় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। দু’জনের কাছের মানুষদের বাড়িতে গিয়ে রাতও কাটিয়েছেন।

তরুণী (১৮) বিয়ের চাপ দিতেই বেঁকে বসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শেরপুরের আবুল কালাম খাঁনের ছেলে সিরাজুল খান (২৭)। প্রেমিকাও নাছোড়, সোজা প্রেমিকের বাড়িতে হাজির। শুরু করলেন অনশন।

উপায়ন্তর না দেখে সিরাজ এবং তার পরিবার দু’জনের বিয়ের আশ্বাস দিলেন। তরুণী অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে গেলেন। এরপর থেকেই আর প্রেমিকের নাগাল পাচ্ছেন না ওই কলেজছাত্রী।

অবশেষে শহরতলীর বিরাসারস্থ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী গত ১৫ জুলাই বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতারণার অভিযোগ এনে সিরাজের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

কলেজ ছাত্রীর মা ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ফেসবুক পরিচয়ে সিরাজুল খানের সঙ্গে তার প্রেম হয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তরুণীর সঙ্গে বহুবার অন্তরঙ্গভাবে মিলিত হন।

এক পর্যায়ে কলেজছাত্রী সিরাজুলকে বিয়ের কথা বললে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে বাধ্য হয়ে বাড়িতে গিয়ে সিরাজুলের বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। এক পর্যায়ে দুই পরিবারের অভিভাবকরা মিলে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু, কয়েক দিন যেতেই সিরাজুল ও তার পরিবারের সদস্যরা সাফ বলে দেন, এই বিয়ে হবে না। এরপর গত ১ জুলাই ওই ছাত্রী বিয়ের দাবি সিরাজের বাড়িতে অবস্থান শুরু করেন।

প্রেমিকার উপস্থিতি টের পেয়ে সিরাজ পালিয়ে যান। পরে গভীর রাতে সালিস বৈঠকে এলাকার মুরুব্বিরা দু’পরিবারকে মীমাংসা করার পরামর্শ দেন। সিরাজের পরিবারের আশ্বাসে অনশন ভেঙে ফিরে যান।

সর্বশেষ গত ৯ জুলাই বিকেলে ওই কলেজছাত্রী সিরাজুলের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবি জানান। কিন্তু, তিনি সব সম্পর্ক অস্বীকার এবং অকথ্য গালিগালাজ করেন।

কলেজছাত্রীর মা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘একমাত্র মেয়ে প্রেম করে ‘সম্ভ্রম’ হারিয়েছে। ছেলেটি তাকে এখন বিয়ে করতে চাচ্ছে না। এতে মেয়ে আমার ভেঙে পড়েছে। দিনকে দিন তার শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সিরাজ এলাকার মাতুব্বরদেরও ম্যানেজ করে ফেলেছে। আমাদের কোনো কথায় তারা শুনতে চাচ্ছেন না। প্রতিনিয়ত সিরাজের পরিবার আমাদের হুমকি দিচ্ছে, ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে সম্মানহানি করবে।’

ওই কলেজছাত্রী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সবাই জানে আমি সিরাজের বউ। এখন ওর সঙ্গে বিয়ে না হলে সমাজে মুখ দেখাব কীভাবে? মৃত্যু ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।’

কলেজছাত্রীর অভিযোগের বিষয়ে সিরাজুল খান ও তার বাবা আবুল কালাম খাঁনের সঙ্গে একাধিকার যোগাযোগ করলেও, তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এআর/আইএম

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও