তাবিজের ছলে কানের দুলে হাত, উত্তম-মধ্যমের পর গাড়িতে আগুন

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

তাবিজের ছলে কানের দুলে হাত, উত্তম-মধ্যমের পর গাড়িতে আগুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৫:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯

তাবিজের ছলে কানের দুলে হাত, উত্তম-মধ্যমের পর গাড়িতে আগুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ছেলেধরা সন্দেহে জনতার গণপিটুনীর শিকার হয়েছেন তিন ব্যক্তি। সে সময় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জ্বালিয়ে দেয় উৎসুক জনতা।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল পৌনে ৯টায় উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় গুরুতর আহত ওই তিন ব্যক্তিকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

গণপিটুনির শিকার তিনজন হলেন- চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মালেক (৬০), একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী পাড়ার নুর ইসলাম (৬০) ও পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা প্রাইভেটকার চালক নুর কবির (২৮)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে একটি প্রাইভেটকারযোগে মালেক, নুর, কবির ও অজ্ঞাতনামা এক যুবক হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের সামনে আসেন। তারা অজ্ঞাতনামা এক নারীকে কথিত রাজমোহনী তাবিজ দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে কৌশলে কানের দুল ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। এসময় ওই নারী চিৎকার দিলে প্রাইভেটকারযোগে তারা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের ইছাপুর বাজার দিয়ে ছিপাতলী ইউনিয়নের দিকে পালিয়ে যান।

এ সময় কিছু যুবক তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে। প্রাইভেটকারটি ছিপাতলী ইউনিয়ন পরিষদ রোডের বড় হুজুর বাড়ি এলাকায় যেতেই সেখানে তাদেরকে আটক করা হয়।

পরে তাদেরকে ছিপাতলী বোয়ালিয়া মুখ এলাকায় এনে ছেলেধরা ও কল্লাকাটা গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় কিছু উৎসকু জনতা তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ জনতার কবল থেকে ওই তিনজনকে উদ্ধার করতে পারলেও প্রাইভেটকারটি জায়গাতেই পুড়ে যায়।

গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। পরে পুলিশের সহযোগিতায় উত্তেজিত জনতা থেকে তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।

পিটুনির শিকার নুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা চারজন প্রাইভেটকারযোগে হাটহাজারীতে আসি। আবদুল মালেক নারীদের তাবিজ দিয়ে থাকেন। হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের সামনে এসে এক নারী তাবিজ নিয়ে টাকা দিতে না পেরে কানের দুল ও স্বর্ণালংকার দেন। তবে ওই নারী কিছু বুঝে ওঠার আগেই চিৎকার দিলে আমরা কার নিয়ে সেখান থেকে সরে যাই। কিছুদূর যেতেই আমাদের তিনজনকে ছেলেধরা বলে স্থানীয় কিছু যুবক পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

হাটহাজারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় জনতার রোষাণল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে।

হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, গণপিটুনির শিকার তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তারা প্রতারক বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জেএইচ/এএসটি

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও