উদ্ধার ভারতীয় জেলেকে থানায় হস্তান্তর

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

উদ্ধার ভারতীয় জেলেকে থানায় হস্তান্তর

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১০:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

উদ্ধার ভারতীয় জেলেকে থানায় হস্তান্তর

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ চুরির সময় ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে যাওয়া ট্রলারের ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ দাশকে সিএমপির পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করেছে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের এ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাকে হস্তান্তর করেন।

এর আগে বৈরি আবহাওয়ার মধেও বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ চুরির সময় ডুবে যাওয়া ট্রলারের জেলে রবীন্দ্র দাশকে উদ্ধার করেন বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাওয়াদের নাবিকরা। ৬ দিন সাগরের পানিতে ভেসে থাকার পর ওই জেলেকে বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় থেকে রবীন্দ্রনাথ দাশকে উদ্ধারকারী ওই জাহাজেই চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছিল।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেশে পাঠানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সিএমপির পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কেএসআরএম গ্রুপের সিইও মেহেরুল করিম বলেন, আমরা প্রতিকূল পবিবেশে সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় ভারতীয় ওই জেলেকে গভীর সাগর থেকে উদ্ধার করেছি। যদিও উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিলো না। তবুও কোম্পানির কর্ণধাররা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে রবীন্দ্রনাথ দাশকে উদ্ধারের জন্য বলেন।

তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ যেহেতু ভারতীয় নাগরিক তাই বেশকিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিরীহ ওই জেলেকে দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে কোম্পানির পক্ষ থেকে।    

কেএসআরএম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং লিমিটেডের জাহাজটি ১০ জুলাই কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে ওই জেলেকে উদ্ধার করে। শুক্রবার বিকেলে পতেঙ্গার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি জেটিতে উদ্ধার করা জেলেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হয়। এরপর রবীন্দ্রনাথ দাশকে কোস্টগার্ড কার্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার সকালে সাংবাদিককের রবীন্দ্রনাথ দাশ বলেন, আমার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। উদ্ধারকারীদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। যাদের সাহায্যে আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। জীবন ফিরে পাওয়ায় কৃতজ্ঞাতা জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই এমভি জাওয়াদ, কেএসআরএম, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি।

তিনি আরও বলেন, উত্তাল সাগরে ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর বাঁশ ধরে ভাসছিলাম ১৫ জন মানুষ। আমি ছাড়া সবার লাইফ জ্যাকেট ছিল। একে একে তলিয়ে যাচ্ছিলেন সহকর্মীরা। সব শেষে ছিলাম ভাইপো আর আমি। উদ্ধারের ৩ ঘণ্টা আগে ভাইপো তলিয়ে গেল। যখন বৃষ্টি হতো হা করে পান করতাম। কিন্তু মাছ আমার বাহুতে, ঘাড়ে কামড়াচ্ছিলো। দিন রাত কখনো ঘুমাইনি। বাবা, মা, ছেলে আর মেয়ের মুখটি ভেসে উঠছিলো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌবাণিজ্য দফতরের প্রধান কর্মকর্তা ড. সাজিদ হোসেন, কেএসআরএমের সিইও প্রকৌশলী মেহেরুল করিম, মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম, এমভি জাওয়াদের ক্যাপ্টেন এসএম নাসির উদ্দিন, মাস্টার পুলক কুমার ভাস্কর, মেরিন সুপার ওসমান গনি, ডিপিএ-সিএসএ ফয়েজ আহমদ জুকব, ডাক্তার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রান্ড ম্যানেজার মনিরুজ্জামান রিয়াদ প্রমুখ।

এইচআর

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও