ধসের ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ধসের ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক

প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি ৭:১৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

ধসের ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক

গত পাঁচ দিনের (শনিবার থেকে) টানা বর্ষণে রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়ার কলাবাগান নামক এলাকায় ছড়ার পানির স্রোতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কটি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় সড়কটি ধসে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বৃষ্টির মধ্যেও ছড়ার পানির স্রোত পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সহসাই স্রোতের দিক পরিবর্তন করতে না পারলে পাহাড়ি ঢলে যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে সড়কটি।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙ্গামাটির ঘাগড়া-সাপছড়ি এলাকায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় সড়কের প্রায় দেড়শ মিটার অংশ। এতে সারা দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় রাঙ্গামাটির।

সড়কটি বিচ্ছিন্নের আটদিন পর সারা দেশের সাথে যোগাযোগ সচল হয়। প্রায় তিন মাস পর একটি ব্রিজ তৈরি করে ভারী যানবাহনের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করা হয়। ব্যাপক পাহাড় ধসের পর সেসময় সওজ বিভাগ খুঁটি দিয়ে সড়কের মাটি ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু গত দুই বছরেও স্থায়ী কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় গত চারদিনের বৃষ্টিপাতে সড়কগুলো আবারো ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ওই সময় পুরো জেলায় পাহাড় ধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয় আরও দুই শতাধিক মানুষ। এর এক বছর পর ২০১৮ সালের ১২ জুন জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে মারা যান ১১ জন। সর্বশেষ এ বছর গত সোমবার রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে সূর্য মল্লিক (৫) নামে এক শিশু ও তাহমিনা বেগম (২৫) নামে এক নারী মারা যায়।

অন্যদিকে শুধু ঘাগড়ার কলাবাগান স্থানটি নয়, জেলার রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের যেসব স্থানে কাঠের খুঁটি দিয়ে মাটি ধরে রাখা হয়েছে, সেসব স্থানের খুঁটি ভেঙে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে বেশকিছু স্থানে সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে সড়কটিও ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা জানান, ‘যেকোনো সময় ধসে পড়ে যেতে পারে সড়কটি। ধস আতঙ্ক বুকে নিয়ে এখন আমাদের গাড়ি চালাতে হচ্ছে। প্রতিবছরই বৃষ্টি হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব ব্যাপারে আগে থেকেই নজরদারি রাখা উচিত ছিলো।’

কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামসুদ্দৌহা চৌধুরী বলেন, ‘সোমবার রাত থেকে ঘাগড়ার ছড়ার স্রোতের দিক পরিবর্তন হয়ে সরাসরি সড়কে গিয়ে আঘাত হানতে শুরু করে। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কটি। ছড়ার ওপরে একটি ঘর নির্মাণের ফলে স্রোতের দিক পরিবর্তন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সওজ বিভাগ প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করেছে। তবে এটা দিয়ে কিছুই হবে না, কারণ বর্ষা সবেমাত্রই শুরু হলো। এখনই যদি এই অবস্থা হয় তবে সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির থামার পর স্থায়ীভাবে সমাধানে কাজ শুরু করতে হবে।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) উপসহকারী প্রকৌশলী আবু মুছা বলেন, সড়কের পাশের দিয়ে তীব্র স্রোতের কারণে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ৩০ মিটার জায়গা ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে গাছের খুঁটি ও বস্তা ফেলে স্রোতের যে অংশটি পরিবর্তন হয়েছে, সেটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

তবে বৃষ্টি না থামার কারণে প্রবল স্রোতে কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বৃষ্টি থামলে স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এইচআর

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও