ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে উৎপাদন বন্ধ কেপিএমে, পানির সংকট

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে উৎপাদন বন্ধ কেপিএমে, পানির সংকট

প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০১৯

ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে উৎপাদন বন্ধ কেপিএমে, পানির সংকট

ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর বন্ধ রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত ৬৬ বছরের দেশের সর্ববৃহৎ কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী পেপার মিলের (কেপিএম) উৎপাদন ক্ষমতা। দুই দিনের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় আবাসিক এলাকায় বসবাসরতদের পানি সরবরাহ রয়েছে বন্ধ। সমগ্র এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে চরম পর্যায়ে।

কেপিএম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটায় আকস্মিক ৬৬০০ ভোল্টের লাইনের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর থেকে পুরো কেপিএম এলাকাটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ৪৮ ঘন্টার বেশি সময় ধরে মিল ও পুরো আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় উঠাবসায় দিন কাটাচ্ছেন কেপিএমের প্রায় সাড়ে আটশ’ শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে কবে নাগাদ মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হতে পারে তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

এদিকে কেপিএম এলাকায় মোটরচালিত টিউবওয়েল থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় পানি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্থায়ী কয়েকটি টিউবওয়েল থেকে পানীয় জলের সববরাহ করতে আসা মানুষের মধ্যে দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। পানি সরবরাহ করতে আসা কয়েকজন মহিলা জানান, পানির জন্য এমন কষ্ট জীবনেও করিনি। হঠাৎ পানি টানতে গিয়ে অনেকে কোমরধরাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছেন।

কেপিএম সূত্র জানায়, ট্রান্সফরমারের ইন্সুলেশন ওয়েল প্রতি ১০-১৫ বছর অন্তর পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও মিল প্রতিষ্ঠার ৬৬ বছরেও ট্রান্সফরমারের ইন্সুলেশন অয়েল পরিবর্তন করা হয়নি। ইন্সুলেশন অয়েল ট্রান্সফরমারের ভিতরের কয়েল ঠাণ্ডা ও সুরক্ষিত রাখে। ইন্সুলেশন অয়েল ত্রুটির কারণেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানায় সূত্রটি।

এ ব্যাপারে কেপিএমের মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) স্বপন কুমার সরকার জানান, কেপিএমের ইনকামিং ১০ কেভি ভোল্টেজের ট্রান্সফরমারে ত্রুটির ফলে সমগ্র কেপিএম জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইতোমধ্যে পিডিবি (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) থেকে দুইজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে। আমরা ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।

কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. এমএমএ কাদের জানিয়েছেন, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কারণে পুরো মিল এলাকা অন্ধকারে রয়েছে। এই ট্রান্সফরমারটি দিয়ে পিডিবির লাইনের সাথে মিলের সংযোগ। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর আমাদের প্রায় সাড়ে আটশত জন শ্রমিক-কর্মচারি-কর্মকর্তা উঠাবসায় দিন কাটাচ্ছেন। আমাদের মিলে আগে থেকে এখন প্রোডাকশন কিছুটা কম। বর্তমান সময়ে প্রতিদিন ১০-১৫ টন কাগজ উৎপাদন হতো। গত দুই আনুমানিক ২৫ টন কাগজ কম উৎপাদন হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি অনেক পুরোনো মিল। পুরো হওয়ায় সবকিছুই জরাজীর্ণ হয়ে আছে। আমরা চেষ্টা করছি অন্যান্য ট্রান্সফরমার থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লাগিয়ে এটা পুনরায় চালু করার।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশ্রাফ আহমেদ রাসেল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে কেপিএমের নিজস্ব ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সংবাদ জেনেছি। এতে করে স্বাভাবিকভাবে মিলের উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। সাধারণত কেপিএমের পানি দিয়ে কেপিএমের আবাসিক এলাকা ছাড়াও এর পাশের মানুষজন চলে। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সবারই কষ্ট পেতে হচ্ছে। আমি নিজেও কেপিএম এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করি। এখন এই দুর্ভোগের সময়ে সবাইকেই একটু কষ্ট করে চলতে হবে।

পিআর/এএসটি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও