নুসরাত হত্যার বিচার শুরু

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

নুসরাত হত্যার বিচার শুরু

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৯

নুসরাত হত্যার বিচার শুরু

আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার চার্জ গঠন হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালত চার্জ গঠন করে ২৭ জুন পরবর্তী শুনানি ও স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন ধার্য্য করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামিকে আদালতে আনা হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু বলেন, আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চার্জ গঠন ২৭ জুন করে মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। আদালতের নুসরাত হত্যা মামলার সব আসামি চার্জশিট থেকে অবমুক্তি চেয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের সে আবেদন খারিজ করে দেন।

আগামী ২৭ জুন নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান, নুসরাতের দুই সহপাঠি নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফুর্তির স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবি মো. হানিফ মজুমদার বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে গাফিলতি রয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্ত যথার্থ নয়। প্রকৃত হত্যার সাথে জড়িতরা এ মামলায় সংযুক্ত হয়নি।

গত ২৯ মে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠা সংবলিত নথি ও চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ৩০ মে মামলার ধার্য তারিখে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি না করে ওই মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানোর আদেশ দিয়ে ১০ জুন মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে ১০ জুন আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে ২০ মে চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এএসটি/

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও