সাবেক সেনা সদস্য ‘হত্যা’ মামলার আসামি চীনা ২৫ নাগরিক

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

সাবেক সেনা সদস্য ‘হত্যা’ মামলার আসামি চীনা ২৫ নাগরিক

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১১:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

সাবেক সেনা সদস্য ‘হত্যা’ মামলার আসামি চীনা ২৫ নাগরিক

চট্টগ্রামের মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে (বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর) সাবেক  সেনা সদস্যকে হত্যার অভিযোগে ২৫ চিনা নাগরিকের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ইকোনোমিক জোনের ভূমি উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামি হিসেবে কারো নাম উল্লেখ করা না হলেও চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই চীনের নাগরিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই মামলার অভিযোগে।

পরিবর্তন ডটকমকে এমনটাই বলে জানিয়েছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ইকোনোমিক জোনের ভূমি উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষ থেকে রোববার (১৬ জুন) রাতে জোরারগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ইকোনোমিক জোনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে।

জেলার জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদ আলী বলেন, ‘মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই চীনের নাগরিক বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।’

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে মিরসরাই উপজেলায় ইছাখালী ইউনিয়নের চর সড়ক গ্রামে ইকোনোমিক জোন এলাকায় সাগর থেকে নান্নু মিয়া (৪৫) নামে একজনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হয়।  নিহত নান্নু মিয়া ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মাটি ভরাট কাজের জন্য সমুদ্রে স্থাপন করা ড্রেজারে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকল্প সংলগ্ন বামন সুন্দর খাল দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে আসা-যাওয়া করতে হয়। গত শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেলে নৌকা বামন সুন্দর খালে প্রবেশের সময় চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের এক্সকেভেটর অপারেটর সেটিতে বিনা উসকানিতে আক্রমণ করে। এ সময় এক্সকেভেটরের বাকেট দিয়ে আঘাত করতে চাইলে অপারেটর ফারুক হোসেন নৌকা ফেলে চলে আসেন।

এরপর চায়না হারবারের কর্মচারীরা নৌকাটি তুলে ডাঙ্গায় রাখে। ১৪ জুন রাত ৯টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও মেরিন ড্রাইভের প্রকল্প পরিচালক জুলফিকার তারেকের নির্দেশে নান্নু মিয়াসহ তাদের পাঁচজন কর্মচারি গিয়ে নৌকাটি পানিতে নামিয়ে আনতে যায়। এ সময় চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ২০ থেকে ২৫ জন লোক তাদের ওপর লাঠিসোটা দিয়ে হামলা করে।

হামলার মুখ অন্যরা পালিয়ে আসতে পারলেও নান্নু মিয়া সেখান থেকে আসতে পারেননি। রোববার স্থানীয় জেলেরা লাশ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জোরারগঞ্জ থানার এস আই আবেদ আলী বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও