রাতের আঁধারেই প্রাণ গ্রুপের কনটেইনার খালাসের চেষ্টা

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

রাতের আঁধারেই প্রাণ গ্রুপের কনটেইনার খালাসের চেষ্টা

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১১:১১ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

রাতের আঁধারেই প্রাণ গ্রুপের কনটেইনার খালাসের চেষ্টা

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনে ঈদের সরকারি বন্ধের সময় ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার খালাসের চেষ্টা করেছে প্রাণ গ্রুপ।

এ সময় দুটি কনটেইনার খুলে সিমেন্টের বস্তা দেখে কনটেইনারগুলো লক করে সেগুলোর খালাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

১০ জুন সোমবার ও ১১ জুন মঙ্গলবার দুইদিনে ওই কনটেইনারের পণ্যের কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বেড়িয়ে আসে সরকারকে এক কোটি ৪২ লক্ষ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্লাস্টিকের দানা ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরবের একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সিমেন্ট আমদানির তথ্য।

চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনায় চট্টগ্রাম বন্দরে প্রাণ গ্রুপের ৩০টি কনটেইনারের খালাস স্থগিত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্লাস্টিকের দানা ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরবের একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সিমেন্ট আমদানি করা হয়েছে এ ৩০টি কন্টেইনারে। আর এর মাধ্যমে প্রায় তিন কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেছিল প্রাণ গ্রুপ।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের একটি ইয়ার্ডে কনটেইনারগুলোর কায়িক পরীক্ষা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সাধন কুমার জানান, দুবাই থেকে প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের নামে ৩০টি কনটেইনারের চালান গত ২৬ মে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ওইদিনই চালান খালাসের জন্য নথিপত্র জমা দেয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চালানে পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার ডলার মূল্যের ৫১০ মেট্টিক টন প্লাস্টিক দানা আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশি টাকায় এর দাম প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। ‘ঈদের সরকারি বন্ধের সময় ৬ জুন রাতে তারা কনটেইনার খালাসের চেষ্টা করে। এ সময় আমরা গিয়ে দুটি কনটেইনার খুলে সিমেন্টের বস্তা দেখা যায়। এরপর পরই ৩০টি কনটেইনার লক করে সেগুলোর খালাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঈদের ছুটি শেষে সোমবার ও মঙ্গলবার দুইদিনে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

কাস্টমসের এই কর্মকর্তা জানান, ৩০টি কনটেইনার খুলে দেখা যায়, চালানটিতে রয়েছে সৌদিআরবের জেবেল আলী ব্র্যান্ডের সিমেন্টের বস্তা। প্রতিটি বস্তায় আছে ৫০ কেজি সিমেন্ট। একটি কনটেইনারে এসেছে ৩৪০টি করে বস্তা। ৩০টি কনটেইনারে ১০ হাজার ২৫০টি বস্তায় মোট সিমেন্ট এসেছে ৫১০ মেট্রিকটন। প্লাস্টিক দানার শুল্ককর ৩২ শতাংশ। আর সিমেন্টের শুল্ককর ৯১ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, আমদানিকারক প্লাস্টিকের দানা হিসেবে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা শুল্ক দিয়েছিল। সিমেন্টের হিসেবে শুল্ক আসে প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

সাধন কুমার জানান, চালানটির খালাস স্থগিত করা হয়েছে। আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর সিমেন্টের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হবে।

এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও