নুসরাতের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার ওসি মোয়াজ্জেমের

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

নুসরাতের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার ওসি মোয়াজ্জেমের

পরিবর্তন প্রতিবেদক:  ৭:০৭ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

নুসরাতের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার ওসি মোয়াজ্জেমের

ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন- পিবিআই।

প্রতিবেদনে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি নুসরাত জাহান রাফিকে জেরা করার সময় তার বক্তব্যের ভিডিও ওসি নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে, সেই অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

রোববার তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করেছেন পিবিআই সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা। তাতে বলা হয় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই।

রিমা সুলতানা বলেন, গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রত্যাহার) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম থানায় নুসরাতের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াননি বলেও দাবি করেছেন। আমরা তদন্তে ভিডিও ধারণ ও তাকে জেরা করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করার সময় নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন।

মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

পরে অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান।

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

পিএসএস

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও