কুমিল্লায় রঙ ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া (ভিডিও)

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

কুমিল্লায় রঙ ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া (ভিডিও)

জহির শান্ত, কুমিল্লা ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

তপ্ত গ্রীষ্মে কুমিল্লা নগরজুড়ে রক্তিম আভা ছড়িয়ে দিয়েছে কৃষ্ণচূড়া। রোদ্রতাপের প্রকৃতিতে সবুজ চিরল পাতার মাঝে ফুটে থাকা রঙিন কৃষ্ণচূড়া নগরীর আনাচে-কানাচে বিলাচ্ছে তার আপন সৌন্দর্য। নানা প্রয়োজনে ঘুরে বেড়ানো ব্যস্ত মানুষজন উপভোগ করছে তার নিমর্ল সৌন্দর্য। শুভ্র সকাল কিংবা পড়ন্ত বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে নগরবাসী যেন বাড়তি পাওনা হিসেবে মন রাঙিয়ে নিচ্ছেন কৃষ্ণচূড়ার রঙ্গে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রঙ লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়। নগরে নৈসর্গিক শোভা বাড়িয়ে দিতে নিজের সবটুকু রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে কৃষ্ণচূড়া। ধূসর নগরের ভাঁজে ভাঁজে মেলেছে তার রক্তলাল ডানা। বাজারে না বিকোনো এই ফুল এরইমধ্যে সৌন্দর্য পিপাসু কুমিল্লাবাসীর হৃদয় আর মননে জায়গা করে নিয়েছে আলাদাভাবে।

কুমিল্লার প্রধান ও একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ধর্মসাগড় পাড়, নগর উদ্যান, প্রেসক্লাবের দুই পাশে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে-মোড়ে অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া গাছ ডাল-পালা ছাড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত এ গাছটি সৌন্দর্য ছড়াতে ছড়াতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, মোগলটুলি টেলিগ্রাফ অফিস প্রাঙ্গণ, ফৌজদারী মোড়, জেলা পরিষদ ও নগর ভবনের রাস্তার পাশে, রাণীর কুটির ভেতরে, স্টেশন ক্লাব প্রাঙ্গণ, জিলা স্কুল চত্বরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশে।

এছাড়াও হাউজিং এস্টেট, চানপুর, শুভপুরসহ নগরীর অধিকাংশ স্থানেই দেখা মিলে রক্তরাঙা ফুলে আচ্ছন্ন কৃষ্ণচূড়া গাছের। নগরবাসী প্রাণভরে উপভোগ করছে এর সৌন্দর্য, নিচ্ছে ছায়াও। কেবল নগরীতেই নয়, কৃষ্ণচূড়া তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে রাঙিয়ে তুলেছে গ্রামের সবুজ প্রান্তর, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ও বাড়ির আঙ্গিনা, পুকুর ঘাট, নদীর আল।

স্কুলপড়ুয়া শিশু কন্যা প্রজ্ঞা কাজীকে নিয়ে নগর উদ্যানের ধর্মসাগর পাড়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন পূর্ব চানপুর এলাকার কাজী রাফি শামস্। বাবার সাথে প্রায়ই ঘুরতে বেড়নো প্রজ্ঞা জানায়, লাল রঙ তার খুব প্রিয়। তাই বাবাকে বলে রক্তলাল কৃষ্ণচূড়ার একটি ছোট্ট ডালা হাতে নিয়ে ঘুরছে সে।

তার ভাষ্য, ‘ফুলের এ ডালাটি বাড়িতে নিয়ে যাব। আমার বোনকে দেখাবো কত্তো সুন্দর ফুল!’

মধ্য গ্রীষ্মের নির্মল বিকেলে হ্টাতে হাটতে কথা হয় প্রজ্ঞার বাবা রাফি শামসের সাথে। তিনি জানান, কোলাহলময় নগরীতে কৃষ্ণচূড়ার এ সৌন্দর্যই হচ্ছে সবুজ-শ্যামল বাংলার প্রকৃত রূপ। আর অন্যান্য শহরের তুলনায় কুমিল্লায় কৃষ্ণচূড়া গাছের সংখ্যা নিঃসন্দেহে বেশি। এজন্যই নগরজুড়ে নান্দনিক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়েছে কৃষ্ণচূড়া। গাছের ডালে সবুজ পাতার ফাক গলে বেড়ে উঠা লাল রঙ যেন আমাদের স্বাধীন সত্ত্বার কথার মনে করিয়ে দিচ্ছে।

গত কয়েকদিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শুধু নগরীতেই নয়, নগর ঘেঁষে বয়ে চলা গোমতী নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া গাছ। ডালে ডালে ফুটে আছে ফুল। নাগরিক কোলাহল ছাড়িয়ে শান্ত বিকেলে অনেকেই হাজির হন গোমতীর পাড়ে; উপভোগ করেন প্রকৃতির সুনীবিড় সৌন্দর্য। শুধু গ্রাম নয়; শহরতলী ও এর আশপাশের অনেকেই ঘুরতে আসেন সেখানে। সাথে থাকে পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধু-বান্ধবী।

কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং বিভিন্নজনের সাথে কথা বলে জানা গেলো, গ্রীষ্মের খরতাপ ছাপিয়ে মনে প্রেমের শিখা জ্বালিয়ে দেয়া রক্তাভ কৃষ্ণচূড়া কিছুটা শঙ্কাও জাগিয়েছে তাদের মাঝে। গেলো বছর নগরীতের উন্নয়নের বাহানায় যে হারে বৃক্ষনিধন হয়েছে; কোন দিন না আবার সাবাড় করে ফেলা হয় সৌন্দর্য বিলানো এই কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোও।

তাই নগরীতে আপন শৈলীতে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো যেন পরিপূর্ণ পরিচর্যা নিয়ে টিকে থাকতে পারে- এ ব্যাপারে নগর ভবন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

জেডএস/এসবি