বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না: শিক্ষা উপমন্ত্রী

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না: শিক্ষা উপমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৯

বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না: শিক্ষা উপমন্ত্রী

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, মিডিয়ার সামনে এসে ‘সব সমস্যার সমাধান করে দেবো’ এমন বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই। এবং কাজের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করতে চাই।

শনিবার চট্টগ্রামের প্রচীনতম দৈনিক আজাদী পত্রিকা আয়োজিত ‘শিক্ষায় চট্টগ্রাম : একগুচ্ছ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, আমরা যারা রাজনৈতিককর্মী, আমাদের যে রাজনীতির ধারা- সেখানে আমরা ভাষণ আর স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকি। তবে নাগরিকের সমস্যা সমাধানের জন্য ভাষণ-স্লোগান নয়, নীতি নির্ধারণী আলোচনা প্রয়োজন।

নওফেল বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে শিক্ষার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলতে পারি- আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। অনেকে চট্টগ্রাম বৈষম্য এবং বঞ্চনার শিকার বলে অভিযোগ করেছেন। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।

বিনোয়োগ ও সরকারি খরচ বাড়িয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রচুর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে শিক্ষার মান যার হাতে- সেই শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পরিবর্তন না আসলে সামগ্রিক শিক্ষার মানে এটি কোনো কাজে আসবে না।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যেভাবে বরাদ্দ দিচ্ছেন, তা অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে সবচেয়ে বেশি। তবে এর সুফল পেতে হলে শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি সবাইকে কাজ করতে হবে। শিক্ষার মান বাড়াতে হবে।

নওফেল আরো বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন গত ১০ বছরে শিক্ষার মান কমেছে। তবে আমরা এটি সত্য মনে করি না। শিক্ষার যে মূল লক্ষ্য-দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা, সেটাতে হয়তো আমাদের শতভাগ সফলতা নেই। তবে আমরা আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছি।

শিক্ষার মান কম হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এভাবে হতো না। আমরা কল্পনা করিনি বাংলাদেশ আজকে এ পর্যায়ে  পৌঁছাবে। এতো শিক্ষার্থী এনরোলমেন্টে থাকবে। ড্রপ আউট রেইট কমবে। যোগ করেনি তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আগে কারিগরি শিক্ষায় ১ শতাংশের কম শিক্ষার্থী ছিলো। এখন ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। আরো হবে। উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। সারাদেশের ১১০টি উপজেলায় ১টি করে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা আমাদের লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছেন।

নগরের শিক্ষার বিষয়ে নওফেল বলেন, চট্টগ্রামে সরকারি স্কুলে অপ্রতুলতা রয়েছে। এ কারণে এখানে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেটি দেশের আর কোথাও নেই। সরকার এখানে বিনিয়োগ করছে। চসিকের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে চট্টগ্রামে আরো কিছু সরকারি স্কুল করা যায় কি না চেষ্টা করবো। এটি আমাদের ইমার্জেন্সি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু কিছু সমস্যার ইমিডিয়েট সমাধান করা সম্ভব না। প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি করা হবে।

এসময় আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক বলেন, একটি দেশ, একটি জাতি এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা খাতের উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় ডাইভার্সিটি আনা প্রয়োজন। টেকনিক্যাল খাতকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম, মাউশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, মাউশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ পরিচালক আজিজ উদ্দিন, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জালাল উদ্দিন, শিক্ষক নেতা আবু তাহের প্রমুখ।

এইচআর