কাদেরের কক্ষেই হয় নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

কাদেরের কক্ষেই হয় নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা

ফেনী প্রতিনিধি ৮:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

কাদেরের কক্ষেই হয় নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আব্দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

হাফেজ আব্দুল কাদের সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের প্রধান এবং এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলার অন্যতম সহযোগী।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল রাতে সাংবাদিকদের জানান, হাফেজ আব্দুল কাদের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন।

ঘটনার দিন তিনি ঘাতকদের নিরাপত্তায় মাদ্রাসার ফটকে পাহারায় ছিলেন। এ ছাড়া তার কক্ষেই এই হত্যাকাণ্ডের গোটা পরিকল্পনা হয় বলে জানিয়েছেন আব্দুল কাদের।

নুসরাত হত্যায় এর আগে মামলার অন্যতম তিন আসামি নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম ও শরীফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্যে গতকাল বুধবার সকালে ঢাকার হোসনি দালান এলাকা থেকে আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে এর আগেও ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল।

এরই মধ্যে গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেয়া হয়।

গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাত মারা যান। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনার পর গত ৮ এপ্রিল তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর ১০)।

এ ছাড়া শ্লীলতাহানির অভিযোগ করতে থানায় যাওয়ার পর নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ায় গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থানার ওই সময়ের ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হয়েছে। এ মামলাও তদন্ত করছে পিবিআই।

পিবিআই প্রধান বনোজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত পরোক্ষদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

এএএম/আইএম