সাংগ্রাইয়ের মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসবে মেতেছে বান্দরবান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

সাংগ্রাইয়ের মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসবে মেতেছে বান্দরবান

বান্দরবান প্রতিনিধি ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

সাংগ্রাইয়ের মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসবে মেতেছে বান্দরবান

বর্ষবরণ সাংগ্রাইয়ের জলকেলি উৎসবে মেতেছে বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়। এটি এখন শুধু মারমাদেরই না, এই উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। শহরজুড়ে চলছে মৈত্রী পানিবর্ষণ। শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্করাও একে অপরের গায়ে পানি ঢেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছেন।

উৎসবে যোগ দিয়েছেন দেশি-বিদেশি পর্যটক। আনন্দ-উদ্দীপনা আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে বর্ণিল হয়ে উঠেছে বান্দরবান শহর। সাংগ্রাই উপলক্ষে শহরের রাজবাড়ি মাঠে একদিকে চলছে তরুণ-তরুণীদের মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসব আর অন্যদিকে মঞ্চে চলছে সাংগ্রাইয়েরর ঐতিহ্যবাহী গান ‘সাংগ্রাইয়ে মা ঞি ঞি ঞা ঞা রিকাজাই কাই পামে’ গান।

সোমবার শহরের রাজার মাঠে বিকেলে যখন পানিবর্ষণ উৎসব শুরু হয়, তখন সবার মুখে মুখে ফিরছিল মারমা গানের এই সুরের মূর্ছনা। মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ সাংগ্রাই উৎসবের অন্যতম আয়োজন জলকেলি বা পানিখেলা শুরু হয়েছে আজ থেকে। উৎসব উপলক্ষে রাজার মাঠে ছিল বিশাল আয়োজন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর দল বেঁধে পানি খেলা প্রতিযোগিতা। নেচে-গেয়ে আনন্দ উৎসবে নানা রঙের পোশাক পরে সাংগ্রাই পালন করে মারমা সম্প্রদায়। উৎসবে শুধু মারমারাই নয় নানা সম্প্রদায়ের লোকজনও অংশ নেয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য জায়গা বান্দরবান।

প্রতিটি উৎসবেই নানা সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ নিয়ে উৎসব উদযাপন করে। এবারও সাংগ্রাই উৎসবে এই সম্প্রীতির কোনো কমতি ছিল না। পাহাড়ি বাঙালি সবাই একসাথে মেতে ওঠে পানি খেলায়।

বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি সাংগ্রাইয়ের পানিবর্ষণ উৎসবের সূচনা করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে সেনা রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শাহিদুল এমরান, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল কালামসহ বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাজার মাঠের মৈত্রী পানিবর্ষণ মঞ্চে মারমা তরুণ-তরুণীরা মেতে ওঠে জলকেলি উৎসবে। বিভিন্ন পাড়ার তরুণ-তরুণীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নানা রঙে নানা সাজে সেজে তরুণীরা মেতে ওঠে উৎসবে। শুধু তরুণরাই নয়, শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও পানি খেলায় অংশ নেয়।

মারমাদের বিশ্বাস—স্বচ্ছ পানির ধারা ধুয়ে মুছে দেবে পুরোনো বছরের যত দুঃখ গ্লানি বেদনা। আর বরণ করে নেওয়া হবে নতুন বছরকে। এই বিশ্বসেই একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে দেয়া হয় বর্ষবরণে। গতকাল সকাল থেকেই ছিল উৎসবের নানা আয়োজন। বৌদ্ধমন্দিরে ভিক্ষুদের জন্য নানা প্রকারের উৎকৃষ্ট খাবার (ছোয়াইং) উৎসর্গ করা হয়। এর আগে উজানীপাড়া সাংঙ্গু নদীর ঘাটে বুদ্ধমূর্তি স্নান উৎসবের আয়োজন করা হয়।

চন্দনের পানিতে বুদ্ধমূর্তি ধুয়ে সেই পবিত্র পানি পান করে ধর্মপ্রাণ নর-নারীরা। রাতে পাড়ায় পাড়ায় চলে পিঠা তৈরির আয়োজন। শুধু মারমারাই নয়, ম্রোরা এবার চিম্বুকের ভাইট্টা পাড়া এলাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ চাংক্রান পালন করেছে। ত্রিপুরাও নেচে গেয়ে পালন করেছে বৈসুক। এ ছাড়া চাকমাদের বিজু আর তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষুতেও ছিল আলাদা আলাদা আয়োজন।

আগামীকাল মঙ্গলবার চিম্বুক পাহাড়ের খুশিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হবে খুমি সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব। বর্ষবরণ নিয়ে পাহাড়ি বাঙালির সম্প্রীতির উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বান্দরবান। আগামীকাল রোয়াংছড়িসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় সাংগ্রাই উৎসব পালিত হবে।

এমএ