ব্যাংকার ভয়ঙ্কর, ১৫ কোটি টাকা লুটে উধাও

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ব্যাংকার ভয়ঙ্কর, ১৫ কোটি টাকা লুটে উধাও

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী ৭:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০১৯

ব্যাংকার ভয়ঙ্কর, ১৫ কোটি টাকা লুটে উধাও

ফেনীতে ১৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন বেসরকারি ঢাকা ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব (৩৫)।

তিনি ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বড় বাড়ির মৃত আজিজুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।

টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর থেকে ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা ভিড় করেন। তাদের বক্তব্যে রাশেবের ভয়ঙ্কর জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে।

ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গোলাম সাঈদ রাশেব ঢাকা থেকে পড়ালেখা করেছেন। ফেনী শাখায় তিনি দুই মেয়াদে প্রায় ৯ বছর চাকরি করেছেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে রাশেব ফেনী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার (ক্রেডিট) পদে ছিলেন।

গ্রাহকরা জানান, দীর্ঘ সময় একই শাখায় চাকরি করায় রাশেব সবার আস্থাভাজন ছিলেন। গ্রাহকরা তার কাছে চেক, নগদ ও ঋণের কিস্তির টাকা দিয়ে যেতেন। পরে তিনি জমা দিতেন।

এই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে চতুর রাশেব ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে নিজে এবং ব্যাংকটির অন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনেক গ্রাহকের থেকে চেক সংগ্রহ করে রাখেন। তা দিয়েই প্রায় ১৫ কোটি টাকা লোপাট করে হাওয়া হয়ে গেছেন।

রাশেবের গতিবিধি সন্দেহজন মনে হওয়ায় গত ১২ মার্চ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানান। এর পরের দিনও রাশেব অফিসে এসেছিলেন। কিন্তু, সকাল সাড়ে ১০টার পর বাইরে যাওয়ার কথা বলে গায়েব হয়ে যান।

চেক দিয়ে টাকা উঠানোর মেসেজ পেয়ে বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকজন গ্রাহক ব্যাংকে অভিযোগ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, রাশেব ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর গ্রামের মাহবুবুল হক রিপনের একাউন্ট থেকে ৩৪ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন।

তার ছোট ভাই ফজলুল হক পলাশের মুনতাসির এন্টারপ্রাইজ নামীয় একাউন্ট থেকেও ৪২ লাখ টাকা একই কায়দায় তুলে নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফেনী শহরের ভেতরের বাজারের কাপড়ের ব্যবসায়ী অজয় কুমার বণিকের ‘লোক সমন্বয়’ নামীয় একাউন্ট থেকে ৭০ লাখ ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাচ্চুটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন মজুমদারের ৮ লাখ টাকাও এভাবে লোপাট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক মাহবুবুল হক রিপন অভিযোগ করেন, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের অধীনে ব্যাংকের এ শাখায় ৫ কোটি টাকার ঋণ চলমান রয়েছে। ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে দুটি ব্যাংক চেক নিয়েছিলেন গোলাম সাঈদ রাশেব। পরে যোগাযোগ করে দেখতে পান, দুটি চেক দিয়ে ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ তিনি এই টাকা তুলেননি।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, এখন পর্যন্ত টাকা খোয়া গেছে জানিয়ে অন্তত ১৫ গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এসব গ্রাহকের ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে। গোলাম সাঈদ রাশেবের সঙ্গে অনেক গ্রাহকের ব্যক্তিগত লেনদেন রয়েছে বলে তারা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। সে হিসাবে ধারণা করা যায়, বড় ধরনের অর্থ লোপাট করে উধাও হয়ে গেছেন রাশেব।

এ বিষয়ে ঢাকা ব্যাংকের ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক আখতার হোসেইন সরকার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ঠিক কতগুলো একাউন্ট থেকে এভাবে কি পরিমাণ টাকা উঠানো হয়েছে, তা বলা মুশকিল।’

তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানাচ্ছেন। ঢাকা থেকে আইটি এক্সপার্ট আসছেন। তাদের মাধ্যমে বিষয়টি চিহ্নিত করা যাবে।’

প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুতই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলেও জানান আখতার হোসেইন।

তবে, এখন পর্যন্ত ফেনী শাখার পক্ষ থেকে আইনি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এএএম/আইএম

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও