সীমান্ত হাটের অচলাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

সীমান্ত হাটের অচলাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক

ফেনী প্রতিনিধি ৯:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

সীমান্ত হাটের অচলাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক

ভারতীয় কাস্টমসের কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বৈঠকে অভিযোগ তুলেছেন স্বয়ং সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারতীয় সদস্য শংকর ভৌমিক।

ছাগলনাইয়া সীমান্ত হাটে অসম বাণিজ্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মাসব্যাপী ধর্মঘটে অচল হওয়া সীমান্তহাট সচল করতে সোমবার দুপুরে সীমান্তহাটে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তহাট ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে বৈঠক বসে।

বৈঠকে এই ভারতীয় আরো বলেছেন, ভারতীয় কাস্টমস ভারতীয় ক্রেতাদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার পণ্য ছিনতাই করেছে। তিনি কাস্টমসের বিরুদ্ধে সেই দেশে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে সীমান্ত হাটকে কেন্দ্র করে অসম বাণিজ্য, চোরাচালান বন্ধ, মাদক, পণ্য তালিকা ঝুলানো, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পাইকারি পণ্য বিক্রি বন্ধ, ভারতীয় ক্রেতাদের সীমান্ত হাটে প্রবেশে কাস্টমস ও বিএসএফ বাধা অপসারণসহ সীমান্ত হাটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সীমান্ত হাটে সিসি ক্যামেরা ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বাজারে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করবেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও শিগগিরই একই পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আবারো সীমান্তহাট চালু করতে দু-দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ব্যবসায়ীরা একমত হয়েছেন।

ছাগলনাইয়া সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারত-বাংলাদেশ বৈঠকে আরো জানানো হয়, সীমান্ত হাটে পাইকারী পণ্য বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পাইকারী পণ্য বিক্রিতে বিরত থাকতে হবে। সীমান্ত হাটের পাঁচ কিলোমিটারের বাইরের ক্রেতাদের সীমান্ত হাটে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। সীমান্ত হাটের উদ্দেশ্য দু- দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনা, শুধু বাণিজ্য নয়। ভারতীয়দের জন্য ৫-৭ কেজি পণ্যের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে নীতিমালা অনুযায়ী দুইশ ডলারের পণ্য নিয়ে ভারতীয় ক্রেতাদের ভারতে প্রবেশের বাধা অপসারণ করা হবে।

দু-দেশের ব্যবসায়ীদের শুধু ব্যবসা নিয়ে চিন্তা করলে চলবে না, সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়টি নজরে রাখতে হবে। প্রতি হাটবারে দু-দেশ থেকে সমহারে ১২শ করে ২৪শ ক্রেতা সীমান্ত হাটে প্রবেশ করতে পারবেন। দু-দেশ সীমান্ত হাটে নিজ দেশের পণ্য তালিকা তৈরি করে একে অপরকে প্রদান করলে দু-পক্ষ থেকে চুক্তি অনুযায়ী পণ্যে তালিকা চূড়ান্ত করবেন।

এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত হাট দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ, ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস বিক্রি বন্ধ; নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ভারতীয় মাদক কারবারীদের মাদক বিক্রি, বর্ডারহাট দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে প্রবেশ, সীমান্তহাটে ফেনসিডিল বেচা-কেনা ও টয়লেটে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। ভারতীয় পক্ষ থেকে সীমান্ত হাট ঘিরে বিরাজমান সমস্যাগুলো অপসারণ করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

ছাগলনাইয়া সীমান্ত হাটের হলরুমে আয়োজিত দু-দেশের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সীমান্ত বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আক্তার উন নেছা শিউলী। ভারতের পক্ষে সেদেশের দক্ষিণ ত্রিপুরার এডিএম সন্তোষ দাশ।

বৈঠকে বিএসএফর দক্ষিণ ত্রিপুরার সহকারী পরিচালক মনোজ কুমার, এসআইডি মেহের চান, ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, এসি ল্যান্ড মো. কামারুজ্জামান, সহকারী কমিশনার নাসরিন চৌধুরী, ওসি এমএম মুর্শেদ পিপিএম, ওসি (তদন্ত) সুদ্বীপ রায় পলাশ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক মাহবুব চৌধুরী, বিজিবির মধুগ্রাম কোম্পানি কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, এছাড়া সীমান্ত হাটের বিভিন্ন সমস্যা ও সুপারিশ নিয়ে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের ফেনী প্রতিনিধি দিলদার হোসেন স্বপন, সময় টিভির ফেনী অফিসের রিপোর্টার আতিয়ার সজল, ছাগলনাইয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবুল হাসান।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা মোকামিয়া এবং ভারতের ত্রিপুরার শ্রীনগর এলাকায় জিরো পয়েন্ট দেশের তৃতীয় ছাগলনাইয়া সীমান্ত হাট। দু- দেশের সমঝোতা আলোকে সীমান্ত হাটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তরকারি, ফলমূল, খাদ্য সামগ্রী, মসলা, অপ্রধান বনজ পণ্য, যেমন-গামছা, লুঙ্গী, শাড়ি, গৃহস্থালী ও কৃষি উপকরণ দা, লাঙ্গল, কুঠার, বেলচা, বাটাল, তৈরি পোশাক, মেলামাইন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলের জুস, স্টেশনারি, প্রসাধন সামগ্রী, টয়লেট্রিজ, প্লাস্টিক পণ্য, অ্যালুমিনিয়াম এবং বর্ডারহাট এলাকায় উৎপাদিত দেশজ পণ্য বিক্রির কথা। অথচ সীমান্ত হাট চালু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় ব্যবসায়ীদের তাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যান্ডের পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, অতিরিক্ত দাম আদায় করছে বলে বাংলাদেশিদের অভিযোগ।

এইচআর