ফেনীতে ডাল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

ফেনীতে ডাল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

ফেনী প্রতিনিধি ৭:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

ফেনীতে ডাল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

ফেনীর বিভিন্ন উপজেলায় ডালজাতীয় ফসল—মশুর, ছোলা, মাষকলাই, মুগ, খেসারি, ফেলন, মটরের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। ছোলা ছাড়া অন্যান্য ডাল জাতীয় ফসল বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আবাদ বেশি হয়েছে। খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনে কৃষকদের দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস জানায়, কৃষিপর্যায়ে উন্নত জাতের ডাল, তেল, মসলা (তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প) বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের আওতায় চলতি মৌসুমে কৃষকদেরকে ডাল জাতীয় ফসল আবাদে উৎসাহ জোগাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি প্রদর্শনী ও কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। শুধু সদর উপজেলার ১০ হেক্টর জমিতে ছোলা আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে মশুর ডাল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২১৮ হেক্টর।
মশুর ডালের চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ মশুর ডাল আবাদ হয়েছে।

সদর উপজেলায় মশুরের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ২৫০ হেক্টর। সোনাগাজী উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর, দাগনভূঞায় ২৫ হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় ৭ হেক্টর, পরশুরামে ৫ হেক্টর। সবচেয়ে কম আবাদ হয়েছে ফুলগাজী ১ হেক্টর জমিতে।

খেসারির ডাল গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৭৩ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলায় ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৬৩ ভাগ খেসারির ডাল আবাদ হয়েছে। সদর উপজেলায় খেসারি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হেক্টর ও দাগনভূঞায় ৮ হেক্টর। ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামে চলতি মৌসুমে খেসারির ডাল আবাদ হয়নি।

মুগডাল গত মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২৫ হেক্টর। চলতি মৌসুমে মুগডাল লক্ষ্যমাত্রার ৬০১ হেক্টরের মধ্যে সোনাগাজীতে মুগডাল আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫৪ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ৬৬ ভাগ মুগ ডাল আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
সদর উপজেলায় মুগ ডাল আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হেক্টর। দাগনভূঞায় ৭ হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় ১০ হেক্টর, পরশুরামে ৭ হেক্টর ও ফুলগাজী ৮ হেক্টরে আবাদ হয়েছে।

ফেলন ডাল গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৬৮৫ হেক্টর। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৫৭ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ৬৩ ভাগ ফেলন ডাল আবাদ হয়েছে।

সদর উপজেলায় ফলনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫২০ হেক্টর। সোনাগাজীতে ১ হাজার ১০ হেক্টর, দাগনভূঞায় ১২ হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর, পরশুরামে ৩৫ হেক্টর ও ফুলগাজী ১৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

মটর ডাল গত মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮৭ হেক্টর। কিন্তু চলতি মৌসুমে ২৬০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় মটরডাল আবাদের লক্ষমাত্রা ১২০ হেক্টর। সোনাগাজীতে মটর ডাল আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ হেক্টর জমিতে। দাগনভূঞায় ৪৫ হেক্টর জমিতে। ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় মটর ডাল আবাদ হয়নি।

মাষকলাই গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ হেক্টর। চলতি মৌসুমে মাসকলাই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৯ হেক্টর। এর মধ্যে ৬৫ ভাগ মাষকলাই আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। সদর উপজেলায় মাষকলাই আবাদের লক্ষমাত্রা ১০ হেক্টর। সোনাগাজীতে ৬ হেক্টর, দাগনভূঞায় ১২ হেক্টর, পরশুরামে ১ হেক্টর জমিতে। ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ায় এবার আবাদ হচ্ছে না।

পাঁচগাছিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার জানান, প্রতি বিঘায় মশুর ডাল উৎপাদনে কৃষকের খরচ হবে ৩ হাজার ৭০০ টাকা। আয় হবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকার মতো।

ফেনী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, ফেনীতে অনেক পতিত জমিতে ডাল জাতীয় ফসল ব্যাপক আবাদ হয়েছে। ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। এসব ফসল উৎপাদনে খরচ অনেক কম। এতে কৃষকদের চাহিদা পূরণ হবে।

ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জয়েন উদ্দিন জানান, ফেনীতে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে হওয়ায় ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন পূর্বের তুলনায় ভাল হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের উৎসাহ যোগাচ্ছে কৃষি বিভাগ। খরচ পুষিয়ে বাড়তি টাকা আয়ের পাশাপাশি বীজ বিক্রয় করেও বাড়তি টাকা আয় করতে পারবে।

এমএ