মাঘের কুয়াশায় আচ্ছন্ন কুমিল্লার জনপদ(ভিডিও)

ঢাকা, ৩ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

মাঘের কুয়াশায় আচ্ছন্ন কুমিল্লার জনপদ(ভিডিও)

জহির শান্ত, কুমিল্লা ১১:২২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৯

বিদায়ী মাঘের কনকনে শীত জেঁকে বসেছে কুমিল্লার গ্রামীণ জনপদে। জেলা শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে শীতের তীব্রতা তেমন অনুভব না হলেও গ্রামাঞ্চলেই এর প্রভাব বেশি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্রাতিরিক্ত শীত অনুভূত হচ্ছে। হিমেল বাতাসের সঙ্গে কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারপাশ।

শীত আর কুয়াশা একসঙ্গে ব্যাহত করছে চলমান ইরি-বোরো মৌসুমে ধান রোপণকাজ।

তবে জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক; শীতের তীব্রতাও তুলনামূলক কম। অন্যান্য বছরের এ সময়টাতে শীত অনুভূত হয়েছে আরো বেশি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, কুমিল্লাসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ শৈত্যপ্রবাহ চলবে। আর এটিই চলতি বছরের শেষ শৈত্যপ্রবাহ। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জলবায়ুগত সব সমীকরণ উল্টে যেতে বসেছে। ফলে মাঘের এ সময়টাতে শীত থাকলেও নেই আগের মতো শৈত্যপ্রবাহ।

শহুরে জীবনে শীতের তীব্রতা টের পাওয়া না গেলেও এর প্রভাব পড়েছে কুমিল্লার গ্রামীণ জনপদে। সকালে ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে দেরিতে। কনকনে শীতের সঙ্গে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া মানুষকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। কিছুটা স্থবিরতা নেমে এসেছে দৈনন্দিন জীবনে।

বিশেষ করে ইরি-বোরো ধান রোপণের এ সময়টাতে কনকনে শীত ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্মে। সকালের দিকে অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে জমিতে যেতে হচ্ছে দেরি করে। আবার বিকেলের আগেই ফিরতে হচ্ছে বাড়ি। কারণ সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কৃষক আবদুল হাকিম বলেন, ঠান্ডা হাওয়া আর কনকনে শীত মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এখন ধান রোপণের ব্যস্ততা। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করা যাচ্ছে না।

শুধু কৃষিকাজই নয়, তীব্র শীত কাবু করে ফেলেছে গ্রামীণ জনপদের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই। সন্ধ্যার পর বিশেষ কাজ না থাকলে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। আর রাস্তায় বের হলে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য খুঁজে পাওয়া যায় না বাহন।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ গ্রামের রিকশাচালক মোস্তফা বলেন, শীতকাল শুরু হওয়ার পর থেকেই আয় কমেছে। কারণ শীতের জন্য সকালে রিকশা নিয়ে বের হওয়া কঠিন। বেলা বাড়লে কিছুক্ষণ রিকশা চালিয়ে আবার সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরতে হয়। রাতে যেই কুয়াশা পড়ে; রিকশা চালামু কি-নিজেই তো চলা যায় না।

এদিকে  শীতের শুরু থেকেই কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় নিউমোনিয়া, হাঁচি-কাশি, জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এদের মধ্যে সিংহভাগই রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। আক্রান্তদের অনেককেই নিজ নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে। কেউ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে, কেউ পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছে।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, শীতবাহিত এসব রোগ থেকে বাঁচতে গায়ে সব সময় গরম পোশাক পরতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও মুরব্বিদের প্রতি বেশি খেয়াল রাখতে হবে। তারপরও কেউ রোগাক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

গ্রামে এবার শীত একটু বেশিই অনুভূত হচ্ছে—উল্লেখ করে কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাঈল ভূইয়া জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিকেলের পর থেকে সকাল পর্যন্ত তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে। এখন যে অবস্থা আছে এটা স্বাভাবিক। এ অবস্থাকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

সকালের পর থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে থাকে—উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টায় তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুরে তা গিয়ে দাঁড়ায় ২২ ডিগ্রিতে। শনিবার সকাল ৭টায় কুমিল্লায় তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অবস্থা আরও ২-১ দিন থাকতে পারে।

জেডএস/এমএ

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও