রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য্য নষ্ট করছেন কারা!

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য্য নষ্ট করছেন কারা!

প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি ১:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য্য নষ্ট করছেন কারা!

যত্রতত্র ময়লা-আর্বজনা ফেলার কারণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে রাঙ্গামাটির পরিবেশ। পর্যটন স্পট থেকে শুরু করে কাপ্তাই হ্রদ; সব জায়গায় চলছে ইচ্ছেমতো দূষণ। স্থানীয়রা বলছেণ, এই হযরলব অবস্থা এখনই ঠেকানো না গেলে শ্রী হারাবে রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্প।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিন দেখা গেছে, দূর থেকে আসা পর্যটকরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবহার শেষে যেখানে সেখানে ফেলছেন। অনেকেই স্থানীয় লঞ্চ কিংবা ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ঘোরার সময় কাপ্তাই হ্রদেই ফেলছেন পলিথিন ও পাস্টিকের বোতল।


পর্যটকরা যেখানে বসে খাবার খাচ্ছেন সেখানেই ফেলছেন উচ্ছিষ্ট খাবারের খোসা। এর মধ্যে রয়েছে বিস্কুটের প্যাকেট, পানির বোতল, চিপস, চানাচুর, পলিথিন, পাস্টিকের বোতল, ওয়ান টাইম খাবারের থালা ও গ্লাস।


সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, পর্যটক এলাকার ভেতরে যারা বিভিন্ন ধরণের দোকানপাট গড়ে তুলেছেন; তারাও ফেলনা জিনিসপত্র আশপাশের এলাকাতেই ফেলছেন। রাঙামাটি পর্যটন সেতুতে (ঝুলন্ত সেতু) উঠার আগেই কয়েকজন অস্থায়ী ব্যবসায়ী বোটে করে আনারস বিক্রি করছেন। যেগুলো কিনে খাচ্ছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। এসবের উচ্ছিষ্ট ফেলছেন পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর স্থান ও পানিতে!


বিক্রেতারাও কাটা আনারসের খোসা ফেলছেন যেখানে সেখানে। কেউ কেউ এগুলো কাপ্তাই হ্রদের পানিতেও ফেলছেন।


স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটকদের অসচেতনতার কারণেই দিন দিন দূষিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদ। তারা আরও বলছেন, পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার্থে পর্যটন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে নজর দিতে হবে।


চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা আলী হোসেন জানান, আমরা রাঙ্গামাটিতে এসেছি কাপ্তাই হ্রদ দেখার জন্য। কিন্তু হ্রদে ঘোরার সময় দেখতে পেলাম, বিভিন্ন স্থানে পলিথিন ও বোতল ভেসে আছে। এতে করে হ্রদের সৌন্দর্য হারাচ্ছে। আমি মনে করি, পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য্য রক্ষা ও হ্রদের দূষণ রোখে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।


স্থানীয় বোট চালক রমজান আলী জানান, আমরা পর্যটকদের পানিতে বোতল, পলিথিনসহ খাবারের খোসা ফেলতে নিষেধ করি। কিন্তু কে শোনে কার কথা!


রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ২/৩জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিয়ে পর্যটকদের চলাফেরার স্থানগুলো পরিষ্কার করে আসছি। এছাড়া কয়েকটি অস্থায়ী ডাস্টবিন করা হয়েছে। কিন্তু পর্যটকরা প্রায় সময়ই সেগুলো ব্যবহার না করে যেখানে-সেখানেই ময়লা ফেলছেন।


তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার অস্থায়ী ব্যবসায়ীদেরও এভাবে ব্যবসা না করতে অনেকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা পাত্তাই দেন না। আমরা গেলে চলে যান। আমাদের অনুপস্থিতিতে আবার এসে ব্যবসা করছেন। তাদেরকে যেতে বলায় তারা আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।

এএসটি/