ভারতীয় স্বামীসহ শ্রীঘরে রাধা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

ভারতীয় স্বামীসহ শ্রীঘরে রাধা

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১১:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

ভারতীয় স্বামীসহ শ্রীঘরে রাধা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সম্পর্ক হওয়ার পর দূরদেশের প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন চট্টগ্রামের সেই গানের শিক্ষক মনিকা বড়ুয়া রাধা (৪৫)। যিনি দুই কন্যার জননী। দীর্ঘ সাত মাস পর ফের প্রেমিকের ডাকে ভারতের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলায় এসে পুলিশের আটক হয়েছেন তিনি। এর আগে এদেশের পুলিশের হাতে আটক হন সেই দ্বিতীয় স্বামীও।

রাধার দুই মেয়ে ও স্বামী রেখে ঘর ছাড়ার রহস্য জানাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর দামপাড়া পুলিশ সদর দফতরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। সেখানেই তিনি জানালেন মনিকার প্রেম, ঘর ছেড়ে সীমান্ত পাড়ি দেয়া ও বয়সে ১০ বছরেরও কম যুবককে বিয়ে করে সংসার পাতার সব কথা। 

আমেনা বেগম বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিকের (৩৫) সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রথমে পরিচয় হয় চট্টগ্রামের গানের শিক্ষিকা মনিকা বড়ুয়া রাধার। সেই পরিচয় সূত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দু’দেশের এ দু’জন। সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করে সংসার পাতার। এরপর চলতি বছরের ১২ এপ্রিল ঘর ছাড়েন মধ্য বয়স্ক প্রেমিকা রাধা। প্রেমিক কমলেশ সেদিন চট্টগ্রাম থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসযোগে মনিকাকে নিয়ে যান যশোরের বেনাপোল সীমান্তে। পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় দূরদেশের প্রেমিকাকে অবৈধভাবেই সীমান্তপাড় করে নিয়ে যান ওপারে। কলকাতায়ে একটি মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। এরপর পশ্চিমবঙ্গের সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা সংসার পাতেন।

চট্টগ্রামের এ পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম বলেন, মনিকা নিজ নাম বদলে নিজের নাম রাখেন অনামিকা মল্লিক। ফেইসবুক প্রেমিক থেকে স্বামী হওয়া কমলেশের সূত্রে স্থানীয় আধার কার্ডও পান তিনি। চট্টগ্রামের খুলশী থানার নিখোঁজ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কমলেশের খোঁজ পান এদেশের পুলিশ। এরপরই সেদেশের রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে উদ্ধার করা হয় তাকে।

পুলিশ জানায়, ব্যবসায়িক কাজে চলতি মাসের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে এসেছেন কমলেশ। পরেরদিন ৪ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে বাংলাদেশের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে স্বীকার করেন প্রেম, ঘরছাড়া, সীমান্তপাড়ি ও বিয়েকরে সংসার পাতার কথা।

আমেনা বেগম জানান, মনিকাকে কৌশলে কমলেশের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে গত ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে আনা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার ভোরে আনা হয় চট্টগ্রামে। মনিকা প্রেমিকের হাতধরে ঘর ছাড়ার সব কথা জানতেন তার পরিবার। কিন্তু অপহরণ হয়েছে অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন তারা। ভারত থেকে বোনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন মনিকা। এমনকি বাড়ি ছাড়ার আগে মেয়েদের বলেও যান তিনি। তবে মনিকার মেয়ে বা বোন কেউ পুলিশকে কোনো সহযোগিতা করেননি।

তিনি বলেন, মনিকা পুলিশকে জানিয়েছে, অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গেছেন। মনিকা এখন একদিকে অপহরণ মামলার ভিকটিম। অন্যদিকে আসামি। চট্টগ্রাম মহানগরের লালখান বাজারের হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে গান শেখানোর জন্য বের হয়েছিলেন চলতি বছরের ১২ এপ্রিল। এরপর রাধার স্বামী দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু গত ১৩ এপ্রিল সিএমপির খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২৮ এপ্রিল অপহরণ সন্দেহে মামলা করেন স্বামী দেবাশীষ। নগরীর কাতালগঞ্জের লিটল জুয়েলস স্কুলে গান শেখাতেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের আদালতের মাধ্যমে মনিকা বড়ুয়া রাধা ও দ্বিতীয় স্বামী কমলেশকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এআরই