গবেষণার ফসল বাঁশের সোফা ও প্রতিবাদ, যা বললেন প্রতিবেদক!

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

গবেষণার ফসল বাঁশের সোফা ও প্রতিবাদ, যা বললেন প্রতিবেদক!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ২:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

গবেষণার ফসল বাঁশের সোফা ও প্রতিবাদ, যা বললেন প্রতিবেদক!

গত ১৬ অক্টোবর ‘৫৯ বছরে গবেষণার সাফল্য এক জোড়া বাঁশের সোফা’ শিরোনামে অনলাইন নিউজপোর্টাল পরিবর্তন ডটকমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের(বিএফআরআই) অনিয়ম ও কর্মকর্তাদের অলস সময়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। সেই প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবাদ লিপিতে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, ‘বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে বন ও বনজ সম্পদের উন্নয়নে গবেষণা করে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। এর অনেকগুলো প্রযুক্তি বন বিভাগ ও বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ মাঠ পর্যায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২২০ প্রজাতির ঔষধিগাছ সংরক্ষণ করেছে।

তাছাড়া পাট থেকে উন্নতমানের মণ্ড তৈরি, বাঁশ চাষ, সংরক্ষণ ও পণ্য তৈরি করছে বিএফআরআই।

প্রকাশিত সংবাদে বীজ বাগান বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. হাসিনা মরিয়ম এবং একই বিভাগের ক্ষেত্র সহকারী উত্তম কুমার চৌধুরীকে উল্লেখ করে তাদের যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে ওই বিষয়ে তারা কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন- তারা উক্ত প্রতিবেদকের কাছে প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করেন নি। সংবাদটি অসত্য, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’

প্রতিবেদকের বক্তব্য:

প্রকাশিত সংবাদটি ওই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেই প্রস্তুত করা হয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দেয়া সরকারের বরাদ্দ, গবেষণার নামে প্রতিবছর কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ, ২৮ সিনিয়র রিসার্চ কর্মকর্তা, ৪৫ জন রিসার্চ কর্মকর্তা ও ১ জন সহকারী মৃত্তিকা বিজ্ঞানীর উদ্ভাবন এবং দুই মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তার গবেষণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

প্রতি বছরই ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার, প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়, গবেষণায় প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়, গবেষণার কাজে বিদেশ সফরসহ নানান ক্ষেত্রে সরকার অর্থ খরচ করে যাচ্ছে। তবে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করেই সরকারের এসব অর্থ আত্মসাত-লুটপাট চলছে এমন অভিযোগে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানটি একাধিক কর্মকর্তা। সেই অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন বিএফআরআইর ডুলাহাজারা স্টেশনের ইনচার্জ উত্তম কুমার চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ও প্রতিষ্ঠানটির ভুয়া বিল ভাউচার যাচাই করেই প্রতিবেদনের সব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু ফান্ডের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় এবং বীজ বাগানের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডার ছাড়া ক্রয় প্রসঙ্গে বিএনআরআইর বীজ বাগান বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. হাসিনা মরিয়মের মুঠোফোনে একাধিকবার কথা হয়েছে। সেসময় অভিযোগ অস্বীকার করে বক্তব্য প্রদান করেন এই প্রতিবেদকের কাছে।

এই প্রতিবেদকের কাছে সেই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। একইভাবে ক্ষেত্র সহকারী উত্তম কুমার চৌধুরীর দায়িত্ব, কোটেশনে মালামাল ক্রয় ও তার দায়িত্ব প্রসঙ্গে মুঠোফোনে বক্তব্য নেয়া হয়েছে। যা এই প্রতিবেদকের কাছে সেই অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।

তাছাড়া বিএফআরআইর পরিচালক খুরশিদা আকতারের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। সেসময় প্রতিবাদ লিপির নিম্নে স্বাক্ষরকারী পাবলিসিটি অফিসার এম জহিরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচ/এএসটি

আরও পড়ুন...
৫৯ বছরের গবেষণার ফসল এক জোড়া বাঁশের সোফা!