সড়ক ধসে গেছে খালে!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সড়ক ধসে গেছে খালে!

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৪:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

সড়ক ধসে গেছে খালে!

চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া শান্তিনগর এলাকায় চলাচলের ১২ ফুট চওড়া সড়কের ২ ফুটও এখন আর অবশিষ্ট নেই! পুরো সড়কই ধসে গেছে খালের মাঝে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় পঞ্চাশ হাজার পরিবার।

শান্তিনগর মহল্লা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাসেম বলেন, খালপাড়ের এ সড়ক দিয়েই শান্তিনগর, পশ্চিম বাকলিয়া ও শাহ আমানত আবাসিক এলাকার প্রায় ২ লাখ লোকের চলাচল। এলাকাটিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে ৭টি মসজিদও।

স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ শামসুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো প্রসূতি মা অথবা মুমূর্ষু রোগীকে যে এ রোড দিয়ে বের করে হাসপাতালে নিবেন সে সুযোগটিও এখন আর নেই। ছেলে-মেয়েরা এ ধসে যাওয়া দেড়শ ফুট সড়কে খালের নোংরা পানি ও ময়লা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। খুব কষ্ট করেই এ এলাকা থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলে যান নারী ও পুরুষরা। কাউন্সিলরকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেননি।  

 

মোহাম্মদ হাসেম বলেন, সড়ক দিয়ে এক সময় অ্যাম্বুলেন্স, কার, মাইক্রোবাস ও ছোট ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, টমটমসহ নানা যানবাহন চলাচল করত। তবে এখন আর কিছুই চলে না। সৎকারের জন্য লাশ নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে বের হবেন সেই সুযোগটিও আর নেই। প্রায় দেড়শ ফুট রাস্তা ধারক দেওয়ালসহ পুরোটাই ধসে গেছে খালের মাঝে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওই এলাকার কাউন্সিলর একেএম জাফর ওরফে জাফর মাস্টার বলেন, সড়কটি গত ৩ থেকে ৪ মাস আগে ভালোই ছিল। খালপাড়ের এ সড়কের খালের দিকে পুরোনো ধারক দেওয়াল (গার্ডওয়াল) ভেঙে নতুন গার্ডওয়াল করার ১৫ থেকে ২০ দিনের মাথায় ধসে গেছে। এক জায়গায় বা দুই জায়গায় নয়! প্রায় দেড়শ ফুট সড়ক পুরোটাই ধসে এখন খালের মাঝে।

কাউন্সিলর জাফর মাস্টারের অভিযোগ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও ধারক দেওয়ালের মধ্যে কোনো রড ব্যবহার না করা ও খালের মধ্য থেকে গাঁথুনী ঠিকভাবে না দিয়ে যেনতেন ভাবে কাজ করার কারণে নির্মাণকাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে ধসে গেছে। এই জন্য তিনি সিটি করপোরেশনের পক্ষে কাজের তদারকিতে থাকা সহকারী উপ-প্রকৌশলী ও কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারকে দুষছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহকারী উপপ্রকৌশলী মোহাম্মদ শওকত বলেন, এটা নির্মাণ ত্রুটি নয়, আমরা নির্মাণ করেছি গার্ডওয়াল ও একটি কালভার্ট। সেখানে কোনো সমস্যা হয়নি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ওই খালের মধ্যে গভীর থেকে ড্রেজিং করার কারণে গার্ডওয়াল ধসে সড়কটি ধসে গেছে। তাছাড়া ড্রেজিংয়ের সময় গার্ডওয়ালের নিচ থেকেও মাটি তুলে ফেলার কারণে দেওয়াল ধসে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

শওকত বলেন, বিষয়টি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। ওই দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানটি ধসে যাওয়া গার্ডওয়াল নির্মাণ করে দিলেই সড়কের কাজ সিটি করপোরেশন থেকে করার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

এসবি