পাতানো নির্বাচনের সুযোগ জনগণ আর দেবে না: নজরুল

ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

পাতানো নির্বাচনের সুযোগ জনগণ আর দেবে না: নজরুল

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

পাতানো নির্বাচনের সুযোগ জনগণ আর দেবে না: নজরুল

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ অন্যায় ভাবে বিএনপি’র বয়োবৃদ্ধ নেতাদের জেলে বন্দী করে রেখেছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তির জন্য ইস্পাত কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই জন্য চট্টগ্রাম থেকেই অতীতের মতো তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

হাটহাজারীর লালিয়ার হাট মাদরাসা মাঠে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম স্মরণে আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নির্বাচন আর হতে দেয়া হবে না। সরকার যতই লম্পজম্প করুক তাতে কোনো কাজ হবে না। পাতানো নির্বাচন করবেন? জনগণ সেই সুযোগ আর দেবেন না।

দেশের সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন- সেনাবাহিনী ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। একটি পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় আরো আকরে থাকতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনী থাকলে তাদের সেই আশা আর  পূরণ হবে না।

দেশে গুম-খুন, জেল-জুলুম আর স্বেচ্ছাচারিতার কথা তুল ধরে বিএনপির এ নেতা বলেন, এ সরকার একটি অমানবিক ও দানবিক সরকার। এদের কাছ থেকে দেশ ও গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

তিনি বলেন, সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মত দলের প্রতি অনুগত নেতা রাজনৈতিক অঙ্গনে আর জন্মাবে না। সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মৃত্যুকালে তাঁর দুঃখ একটাই নেত্রীকে মুক্ত দেখে যেতে পারেননি। রাজনৈতিক জীবনে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করার আহ্বানই ছিল  সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের রাজনৈতিক শেষ বক্তব্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে ওয়াহিদুল আলমের অবদান আলোচনায় শেষ করা যাবে না। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আপোষহীন ছিলেন তিনি। প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে ছিলেন সহায়কের ভুমিকায়। তিনি ছিলেন একজন সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ। রাজনীতিতে তার অবদান ছিল অসাধারন।

চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, জয়নাল আবেদিন ফারুক, গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, মাহবুবের রহমান শামীম, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহিলা দলের নেত্রী সুলতানা আহমেদ, বেগম নুরী আরা ছাফা প্রমুখ।  

এছাড়া বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, শামীমা বরকত, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল হাসেম বক্কর, সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, আবু সুফিয়ান, এম এ হালিম ও হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠান শেষে তিনটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য  মেজবান আয়োজন করা হয়।

জেএইচ/এফএম