দাফনের ৮দিন পর জীবিত উদ্ধার, লাশটি কার ছিল?

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

দাফনের ৮দিন পর জীবিত উদ্ধার, লাশটি কার ছিল?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ১০:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

দাফনের ৮দিন পর জীবিত উদ্ধার, লাশটি কার ছিল?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দাফনের ৮দিন পর মো. আসাদুল্লাহ (৩৮) নামে মৃত এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। শুক্রবার ভোরে তাকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আসাদুল্লাহকে সোনারগাঁও পুলিশ উদ্বার করে সরাইল থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ বলছে, অপহরণের পর কে বা কারা আসাদুল্লাহকে রাস্তায় ফেলে যায়। তাকে উদ্ধারের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। আসাদ ওই উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের অরুয়াইল গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর সরাইল উপজেলার চুন্টা গ্রামের একটি বিল থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আসাদুল্লার শারীরিক গঠনের সাথে উদ্ধার হওয়া মরদেহের মিল থাকায় তার পরিবারের লোকজন আসাদুল্লাহর মৃতদেহ বলে শনাক্ত করে ওই মরদেহটি দাফন করা হয়। এখন দাফন করা ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, অরুয়াইল গ্রামে একটি কৃষিজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আসাদুল্লার সাথে একই ইউনিয়নের ধামাউরা গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে সফিক মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজনের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে সফিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও করেছিলেন আসাদুল্লাহ। এ নিয়ে গত ৫ আগস্ট সফিকের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন আসাদুল্লাহ। এরপর ৯ আগস্ট নিখোঁজ হন আসাদুল্লাহ। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে গত ৬ সেপ্টেম্বর সরাইল উপজেলার চুন্টা গ্রামের একটি বিল থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ আসাদুল্লার শারীরিক গঠনের সাথে উদ্ধার হওয়া মরদেহের মিল থাকায় তার পরিবারের লোকজন আসাদুল্লাহর মৃতদেহ বলে শনাক্ত করে ওই মরদেহটি দাফন করা হয়।

এ ঘটনার পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর আসাদুল্লার মেয়ে মোমেনা বেগম বাদী হয়ে সফিক মিয়াকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ওসি মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, সোনারগাঁও পুলিশ উদ্বার করে আসাদুল্লাহকে সরাইলে নিয়ে আসেন। শনিবার জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হবে। জবানবন্দি গ্রহণের পর পুরো ঘটনা জানা যাবে। উদ্বার হওয়া আসাদুল্লাহর বরাত দিয়ে ওসি আরো জানান, তাকে কে-বা কারা অপহরণ করে ৫দিন পর নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফেলে আসে।

উদ্ধারকৃত দাফন করা মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে বলেন জানান ওসি মফিজ।

এএইচআর/আরজি