চার মাসে উপজেলাবাসীর মন জয় করা এক ইউএনও’র বিদায়

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

চার মাসে উপজেলাবাসীর মন জয় করা এক ইউএনও’র বিদায়

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

চার মাসে উপজেলাবাসীর মন জয় করা এক ইউএনও’র বিদায়

যোগদানের চারমাসের মাথায় বদলি আদেশ পেয়েছেন রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন। গত ৬ মে তিনি কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। এরআগে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা।

১১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিসের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জর সাহার সাক্ষরিত এক আদেশে তাকে কাপ্তাই থেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। জানা গেছে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য তারিখে তিনি কাপ্তাই থেকে বিদায় নিয়ে হাটহাজারী উপজেলায় ইউএনও পদে যোগদান করবেন।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে যোগদানের পর থেকেই তিনি শিক্ষা, মাদক, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে গেছেন। তার এমন কাজে কাপ্তাইয়ের মানুষ বলেছেন, তারা একজন দক্ষ ও যোগ্য সরকারি কর্মকর্তা পেয়েছিলেন। যোগদানের এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্থানীয় জনসাধারণের মন জয় করে নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ইউএনও রুহুল আমিন ছিলেন খবুই সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা। যিনি সরকারের সেবা জনসাধারণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে ছিলেন বদ্ধপরিকর।

বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন চালাতেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাত-দিন বলে ছিলো না কোনো পার্থক্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সাড়ে তিন মাসে ২৫ জন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তার এমন পদক্ষেপ দেখে মাদকসেবী নিজ সন্তানকেও প্রশাসনের কাছে তুলে দিয়েছিলেন এক বাবা।

এসব প্রসঙ্গে কাপ্তাইয়ের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির আহমেদ বলেন,  ‘আমি বলবো তিনি সততার প্রশ্নে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি কাপ্তাইয়ে যতদিন দায়িত্বে ছিলেন, আমাদেরকে নিয়ে তিনি জনগণের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন।

কাপ্তাইয়ের স্থানীয় সাংবাদিক নজরুল ইসলাম লাভলু বলেন, আমি বলবো তিনি এককথায় খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি সহযোগিতার মনোভাবে আমাদের সাথে নিয়ে পুরো কাপ্তাই চষে বেড়িয়েছেন। এমন হয়েছে আমরা কোনো ধরণের খবর পাইনি। কিন্তু তিনি খবর পেয়ে দূর্গম পাহাড়ে পৌঁছে গেছেন। আমাদের মাঝে উনাকে আরও অনেক প্রয়োজন ছিলো।

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, ইউএনও সাহেব এক কথায় খুবই জনবান্ধব, দেশপ্রেমিক ও কর্মযজ্ঞ মানুষ। কাপ্তাই থাকাকালীন এই সময়ে এখানে কিছু মৌলিক পরিবর্তনের জন্য তিনি কাজ করে গেছেন। সমাজে কুসংস্কার দূরীকরণ ও এসবের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি তাকে আরও কিছুদিন এখানেই চাই।

ইউএনও রুহুল আমিন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আসলে চারমাস খুব অল্প সময়। এই চারমাসেই কাপ্তাইবাসীর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কাপ্তাইয়ের মানুষ আমাকে খুব আপন করে নিয়েছে। এর আগে অন্যান্য বদলির সময় আমার এমনটা খারাপ লাগেনি, যা এখন লাগছে। এখান থেকে যেতে মনে হচ্ছে আমি একেবারেই দেশ ছেড়েই চলে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, যেখানে থাকি না কেন, ‘আমার প্রতি কাপ্তাইবাসীর দোয়া থাকবে এটা আমরা বিশ্বাস।

পিআর/এফএম