খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত ৬

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত ৬

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত ৬

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্রাশফায়ারে ৬ জন নিহত ও অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার সকাল সাতটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে উপজেলার স্বনির্ভর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৫ জন ইউনাডেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ, প্রসিৎ বিকাশ গ্রুপ) কর্মী এবং অন্যজন পথচারী স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী।

নিহতরা হলেন, ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা (২৩), সহ-সম্পাদক এলটন চাকমা (২৮), গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা পলাশ চাকমা (২৯), বরুন চাকমা (২৬), রুপন চাকমা (২৭) ও মহালছড়ি উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জিতায়ন চাকমা (৫২)।

আর আহতরা হলেন, সমর বিকাশ চাকমা (৪৮), সুকিরন চাকমা (৩৫) ও সোহেল চাকমা (২২)। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইউপিডিএফের প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা ও জেলা সমন্বয়কারী মাইকেল চাকমা এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতিকে (এমএন লারমা) দায়ী করেছেন।

তবে জনসংহতি সমিতি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনের নেতা সুধাংকর চাকমা দাবি করেন, ‘ইউপিডিএফের (প্রসিৎ গ্রুপ) অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ ঘটনা ঘটেছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রামবাসীদের নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসিৎ বিকাশ গ্রুপ) সকালে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এজন্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পাশের রাস্তায় জড়ো হচ্ছিলেন। কর্মসূচি শুরুর আগেই দুর্বৃত্তরা এসে ব্রাশফায়ার করে।

এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড গুলিবিনিময় হয়। ভারী অস্ত্রের গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। আতংকে মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লাশগুলো উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি সাহাহদ হোসেন টিটু পরিবর্তন ডটকমকে জানান, বিবদমান দুই পাহাড়ি সংগঠনের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘হাসপাতালে ৬ জনের লাশ এসেছে। আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে চলতি বছরের ৪ মে রাঙ্গামাটির নানিয়াচরে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের যাওয়ার পথে বেতছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের কেন্দ্রীয় সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জন নিহত হন।

জেবি/বিএইচ/এফএম/আইএম