প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরে প্রথমবার স্কুলটি পরিদর্শনে গেলেন কোনো ইউএনও

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরে প্রথমবার স্কুলটি পরিদর্শনে গেলেন কোনো ইউএনও

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ১০:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

print
প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরে প্রথমবার স্কুলটি পরিদর্শনে গেলেন কোনো ইউএনও

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীর এক পাড়ে অবস্থিত রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ডংনালা গ্রাম। সে গ্রামেই অবস্থিত ডংনালা উচ্চবিদ্যালয়। ২০০২ সালের ৪ আগস্ট বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এরপর প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৬ বছরে সরকারি কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা কোনো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আগমন ঘটেনি বিদ্যালয়টিতে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এই স্কুল অনুষ্ঠান আয়োজন করেও সরকারি কোনো বড় কর্মকর্তাকে দেখতে পাননি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অবশেষে শনিবার এই প্রথম বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন। তিনি কাপ্তাই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন মাত্র দুই মাস হলো। এরই মধ্যে তিনি প্রথম ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এমন একটি দুর্গম এলাকার বিদ্যালয় পরিদর্শনের সাহস দেখিয়েছেন।

এসময় ইউএনও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপহার স্বরূপ ১০ জোড়া বেঞ্চ প্রদান করেন। কথা বলেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সাথে।

এছাড়া বিদ্যালয়টির ব্যবহারের জন্য কিছু ক্রোকারিজ সামগ্রীও (কাপ-পিরিজ, হাফ প্লেট, খাবার প্লেট) তুলে দেন ইউএনও। বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইউএনও নিজেই একটি ক্লাসরুম ঝাডু দেন। ভাঙা বেঞ্চগুলো অপসারণ করে নিজে উপস্থিত থেকে নতুন বেঞ্চ স্থাপন করেন।

প্রতিষ্ঠার পর ১৬ বছরের মাথায় এই প্রথম কোনো ইউএনও বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন বলে জানালেন ডংনালা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিথুন চন্দ্র। পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাদির আহম্মদ।

ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, কাপ্তাইয়ে যোগদানের পর থেকেই আমি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের খোঁজখবর নিচ্ছি। সেখানকার পড়ালেখার মান ও সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনছি। এরমধ্যে আমি উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। শনিবার রাইখালী ইউনিয়নের ডংনালা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা আছে কাপ্তাইয়ের প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে আমি যাব। এমনকি বিদ্যালয়গুলোকে আমি সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।’

পিআর/এমএসআই

 
.


আলোচিত সংবাদ