পাহাড়ি ঢলে আবারো ফেনীর ২০ গ্রাম প্লাবিত

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

পাহাড়ি ঢলে আবারো ফেনীর ২০ গ্রাম প্লাবিত

ফেনী প্রতিনিধি ১:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮

পাহাড়ি ঢলে আবারো ফেনীর ২০ গ্রাম প্লাবিত

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরি-কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙন কবলিত ৮টি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত সপ্তাহের বন্যায় ক্ষতির রেশ কাটিয়ে না উঠতেই দ্বিতীয় দফা বন্যায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে।

সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর ও বরইয়া অংশের দুটি বাঁধ ভেঙে অন্তত পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়। প্লাবিত গ্রামগুলো হলো- ঘনিয়া মোড়া, উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর, উত্তর বরইয়া ও দক্ষিণ বরইয়া।

এদিকে পরশুরামে পাহাড়ি ঢলের কারণে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুহুরী নদীর ৪টি স্থানে ভাঙনে উপজেলার রতনপুর, দূর্গাপুর, মির্জানগর, চিথলিয়া ও পৌর এলাকার ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এতে কৃষকদের ফসলি জমি, পুকুরের মাছসহ রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুহুরী নদীতে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি, হাঁস মুরগি, গরু ছাগলসহ সব ধরনের গবাদি পশু ও খাবারের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়ছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ ও জমির ফসল।

তারা বলছেন, চিড়ামুড়ির সাময়িক সহযোগিতা নয় প্রয়োজন স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। দুর্গত এলাকার মানুষ চায় স্থায়ী বাঁধ।

তারা জানান, পাহাড়ি ঢলে তাদের ভিটেমাটি সব নিয়ে যায়, যেসব ঘর টিকে আছে তার আসবাবপত্র ও খাবারের পণ্য সামগ্রীও জলে ভেসে নিদারুণ কষ্টে জীবন কাটছে তাদের।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী গত সপ্তাহের বন্যায় পরশুরাম উপজেলার ২০ গ্রামে ২২ পরিবার ও ফুলগাজী উপজেলার ১৯ গ্রামে ৩ হাজার ৫’শ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওই দুই উপজেলার সর্বমোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৩১ হাজার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামত করার প্রকল্প ইতোমধ্যে কমিটির মাধ্যমে রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। পরবর্তী ডিটেইল স্টাডির কাজ চলছে। আমি আশা করছি ওই প্রকল্প নিলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

এএএম/বিএইচ/