পালিয়ে বিয়ে, প্রেমিক পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫

পালিয়ে বিয়ে, প্রেমিক পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

জামালুদ্দিন হাওলাদার, চট্টগ্রাম ১০:১৬ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৮

print
পালিয়ে বিয়ে, প্রেমিক পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

ভালোবাসার পুরুষ আকাশের হাত ধরেই বাবার ঘর ছেড়েছেন চৈতী। এরপর মন্দিরে গেলে মন্ত্রপাঠে যোগ্য করে অন্নদানে চৈতীকে তার ভালোবাসার পুরুষ আকাশের সাতপাকে বেঁধে দেন পুরোহিত।

তবে এই বিয়ে মেনে নিতে রাজি নন চৈতীর বাবা রনবীর চৌধুরী। তাই কন্যাকে অপহরণের অভিযোগে থানায় ঠুকে দিয়েছেন এক অপহরণ মামলা। আর এতে আসামি হিসেবে তুলে ধরেছেন চৈতীর ভালোবাসার পুরুষ আকাশ (২২), তার বাবা সাদন দাশ (৪০) ও মা সবিতা দাশকে (৪৫)।

এর পর চৈতী মাথা নুয়ে শ্বশুরালয় ছেড়ে নিরুদ্দেশ হন ভগবানতুল্য স্বামীকে নিয়ে।

এদিকে, থানা পুলিশ হাতকড়া নিয়ে প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে চৈতীর শ্বশুরালয়ে। পুলিশ কড়া ভাষায় বলে আসে চৈতীকে হাজির করো দু-এক দিনের মধ্যে। না হয় জেলের ডাল-ভাত খেতে হবে পরিবারের সবাইকে।

চৈতীর বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার মির্জাপুর সরকার হাট এলাকায়। নগরীতে সদরঘাট থানার ৮/বি বিকেট প্রিয়াঙ্গনের অষ্টম তলায় থাকেন তারা। আর চৈতীর শ্বশুরালয় শহরের অদূরে কর্ণফুলী থানার দৌলতপুর এলাকায়।

দায়েরকৃত মামলায় রনবীর চৌধুরী বলেন, সদরঘাটে বাসার পার্শ্ববর্তী ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মা মরা কন্যা তুশি চৌধুরী চৈতী চলমান এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে গত ৫ মে থেকে। প্রথম থেকে সবগুলো পরীক্ষা ঠিকঠাকভাবেই দিয়েছে।

তবে গত ১০ মে সকালে আমি চৈতীকে সরকারি কমার্স কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে নিজে দিয়ে এসেছি সকাল সাড়ে ৯টার। প্রতিদিনের মতো দুপুর সাড়ে ১২টায় পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখি সবাই পরীক্ষা দিয়ে স্বজনদের সাথে চলে যাচ্ছে, তবে আমার চৈতী নেই। না পেয়ে চার দিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়েছে, চৈতীর আর দেখা মিলেনি। পরে জানতে পারি আকাশের নেতৃত্বে চৈতীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক মাইক্রোতে তুলে নিয়ে গেছে তার বাবা সাদন দাশ ও মা সবিতা দাশ। ফিরে পেতে আকাশ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করতে হয়েছে।

তবে চৈতীর অভিযোগ, মা মারা যাওয়ার পর থেকে বাবার কাছেই বড় হয়েছি। বেশ কিছুদিন থেকে আমাকে বিয়ে দেবেন বলে পাত্র দেখছেন বাবা-পিসি ও মাসিমারা। আমি বলেছি, আকাশকে আমি ভালোবাসি, ওর সাথেই সংসারী হবো, বাবা ওর (আকাশের) কথা শুনতেই যেন তেলে-বেগুনে আগুন। এর মধ্যে এক পাত্র ঠিক করেছে পরীক্ষার পর লগ্ন লাগলেই বিয়ে দেবেন। পরিবারের ঠিক করা পাত্রের সাথে সংসার করতে অনেকটা ঘরে বন্দি করে রাখা হয় আমাকে। তাই শেষ পরীক্ষা দিয়ে আকাশের সাথেই চলে এসেছি।

চৈতী বিয়ের প্রমাণস্বরূপ চট্টগ্রাম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের করা একটি এফিডেভিট বের করে দেখান এই প্রতিবেদককে। তাতে চৈতীর ভাষায় উল্লেখ করা হয়, আমি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী আমি স্ব-ইচ্ছাই আকাশকে বিয়ে করেছি। কিন্তু আমার বাবা মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।

আর আকাশ বলেন, আমার শ্বশুর মশাইর দায়েরকৃত মামলায় আমার বয়স দেখিয়েছেন ২২ বছর। আর চৈতীর (১৭)। তবে ওর (চৈতীর) শিক্ষা সনদে বয়স এখন ২১ বছর। আর ওর ইচ্ছাতেই বিয়েটা হয়েছে। আমি তো ওকে কোনো জোর করিনি! এখন মিথ্যা মামলায় আত্মগোপনেই থাকতে হচ্ছে।

তবে বিয়ে করে চৈতী আকাশের সাথে সংসারী হওয়ার খবর জেনেছেন কি না- এমন প্রশ্ন করতেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন চৈতীর বাবা রনবীর চৌধুরী।

আকাশের বাবা সাদন দাশ বলেন, আকাশের সাথে চৈতী নামে এক মেয়ের সম্পর্ক ছিল শুনেছিলাম অনেক আগে। তবে গত ১১ মে আমাদেরকে না জানিয়েই মন্দিরে বিয়ে শেষে চৈতীকে নিয়ে ঘরে আসে আকাশ। ছেলে যখন বিয়ে করেছে, ফেলে তো আর দেয়া যায় না। তাই রীতি মেনে ঘরেই তুলে নিয়েছি। কিন্তু চৈতীর বাবা কন্যার বিয়ে মেনে না নিয়ে থানায় মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে ভয় দেখাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

নগরীর সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নেজাম উদ্দিন জানান, মামলা যখন হয়েছে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  এটা অপহরণ মামলা, তাই আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

জেএইচ/এএল/

 
.


আলোচিত সংবাদ