তিন চিকিৎসককে মারধর, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তালা

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৫

তিন চিকিৎসককে মারধর, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তালা

কক্সবাজার প্রতিনিধি ২:৩৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

print
তিন চিকিৎসককে মারধর, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তালা

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তিন ইন্টার্ন চিকিৎসককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সদর হাসপাতালের সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারীরা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবাও। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী লাইট হাউজ এলাকা থেকে হাসান মাহমুদ নামে এক আহত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ওই রোগীকে হাসপাতালের ৫ম তলায় ভর্তি করান। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ৫ম তলায় দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক শাফায়াত হোসেনের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা নিয়ে ওই রোগীর স্বজন মোহাম্মদ সায়েমের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসপাতালের নিজতলায় আসলে তাকে বেধড়ক পেটায় কিছু বহিরাগত।

আহত ইন্টার্ন চিকিৎসক শাফায়াত হোসেন জানান, রোগীর স্বজনেরা আনা মাত্রই দ্রুত রোগীকে অপারেশন করাতে বলেন। ওই সময় অপারেশন থিয়েটারে অন্য রোগীর অপারেশন চলছিল। রোগীর স্বজনদের তাদের কথামত দ্রুত অপারেশন করা সম্ভব না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হাসপাতালের ৩য় তলায় ১০ থেকে ১৫ জন মিলে মারধর করেন। ওই সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হন আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাওহীদ ইবনে আলাউদ্দিন। 

এদিকে হামলার পরপরই হাসপাতাল থেকে রোগীসহ স্বজনেরা দ্রুত পালিয়ে যান। এ কারণে পুলিশ কাউকে তাৎক্ষণিক আটক করতে পারেনি।

ঘটনার পরপরই দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের সকল ফটক আটকে দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ সকল ওয়ার্ডে চিকিৎসা বন্ধ রাখা হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মোসাব্বির হোসেন তানিম বলেন, কথায় কথায় চিকিৎসকদের গায়ে হাত তোলা হয়। চিকিৎসককেরা বিশেষ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা রোগী ও রোগীর স্বজনদের কাছে কোনো মানুষই নয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আপাতত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চিকিৎসা সেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। বিকেলে বৈঠক হবে। বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

কক্সবাজার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পু চ নু বলেন, এটি দুঃখজনক একটি ঘটনা। বারবার ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে চিকিৎসককের গায়ে হাত তোলার সাহস করা হয়।

তিনি বলেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকে এ ঘটনা মামলা দায়ের করা হবে। আর চিকিৎসা সেবা বিকেলের দিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে রোগী হাসান মাহমুদকে লাইটহাউজ এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এমকে/বিএইচ/ 

 
.



আলোচিত সংবাদ