একরাম হত্যায় ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি খালাস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

একরাম হত্যায় ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি খালাস

ফেনী প্রতিনিধি ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

একরাম হত্যায় ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, প্রধান আসামি খালাস

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরাম হত্যা মামলায় ৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী ওরফে মিনার এবং যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টারসহ ১৬ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল হক।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আবিদুর রহমান আবিদ, জাহিদ হোসেন চৌধুরী জিহাদ, এমরান হোসেন রাসেল প্রকাশ ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, জিয়াউল হক বাপ্পি, আজমীর হোসেন রায়হান, মো. শাহজালাল উদ্দিন শিপন, কাজী শাহনান মাহমুদ, নুর উদ্দিন মিয়া, আবদুল কাইয়ুম, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী, জাহিদুল হাশেম সৈকত, মো. আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ বক্কর, আরমান হোসেন কাওসার, চৌধুরী মো. নাফিজ উদ্দিন অনিক, জাহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস মাহমুদ খান হীরা, সজীব, ইকবাল, জাহাঙ্গীর কবির আদেল, পাংকু আরিফ, ইসমাইল হোসেন চুট্টু, জসিম উদ্দিন নয়ন, মামুন, মো. সোহান চৌধুরী, মানিক, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, টিটু, নিজাম উদ্দিন আবু, রাহাত মো. এরফান, টিপু, আরিফ প্রকাশ নাতি আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, রুবেল, বাবলু, শফিকুর রহমান ময়না, রিপন, একরাম হোসেন আকরাম, মহি উদ্দিন আনিস ও মোসলেহ উদ্দিন আসিফ।



ফেনী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, মামলায় আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

এরা হলেন- বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার, যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার, আবদুর রহমান রউফ, হাজী বেলায়েত পাটোয়ারী প্রকাশ টুপি বেলাল, সাইদুল করিম পাপন, রিপন, ইকবাল হোসেন, শরিফুল জামিল পিয়াস (পলাতক), কালা মিয়া, মো. ইউনুস ভূঞা শামীম প্রকাশ টপ শামীম (পলাতক), আলমগীর প্রকাশ আলা উদ্দিন, কাদের, ফারুক, জাহিদ হোসেন ভূঞা, মো. মাসুদ ও মো. শাখাওয়াত।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক সকল আসামির জামিন বাতিল করে রায় ঘোষণার জন্য এ তারিখ ধার্য করেন। এ মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে হেলাল উদ্দিন নামের একজন পরে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫৬ আসামির মধ্যে ১৯ আসামি পলাতক রয়েছে।



হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্যদিকে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া নয় আসামি জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

এছাড়া জামিনে থাকা মো. সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামের একজন আসামি ইতোমধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। এদিকে সাড়ে তিন বছরে ৬৫ কার্য দিবসে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ের পর্যকেত্শষে বিচারক বলেন, আসামিদের ভয়ে সাক্ষীরা আদালতে সঠিকভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেননি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় প্রকাশ্যে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হককে গাড়ির গতিরোধ করে কুপিয়ে, গুলি করে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করেন আসামিরা।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যান একরামুল হকের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন ওরফে মিনার চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

আসামিদের মধ্যে একমাত্র বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরী ছাড়া অন্যরা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।

এএএম/এএল/এমএসআই