খালিপেটে কেন শিশুকে লিচু দিবেন না?

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ | 2 0 1

খালিপেটে কেন শিশুকে লিচু দিবেন না?

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

খালিপেটে কেন শিশুকে লিচু দিবেন না?

মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। হাত বাড়ালেই আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, লিচু- নানা ফলের সমারোহ। দামও কম। ফলে মৌসুমী ফল আমরা তৃপ্তি নিয়ে খেতে চাই।

যেকোনো ফলেই উপকারিতা অনেক। বাড়তি খেলে ক্ষতিও আছে। এজন্য ফল খাওয়ার বেলায় আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি, বিশেষ করে শিশুদের লিচু খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

কোনোভাবেই শিশুদের খালিপেটে লিচু খেতে দেয়া যাবে না। এতে তাদের শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ইতোমধ্যে গত ৬ মে রাজবাড়ীতে লিচুর বিচি গলায় আটকে ফুটফুটে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিগত বছরে লিচু খেয়ে অনেক শিশুর মৃত্যুর খবরও বেশ আলোচিত। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের দিনাজপুরে ও প্রতিবেশী ভারতে।

দিনাজপুরে ২০১৫ সালের জুনে লিচু খেয়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় থেকে ছয় বছর বয়সী ১১ শিশুর মৃত্যু হয়। আগের বছর একই জেলায় মারা যায় ১৩ শিশু। ভারতেও ২০১৭ সালে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয় লিচু খেয়ে।

এরপরই বিজ্ঞানীরা নড়েচড়ে বসেন। গবেষণা করে দেখেন, মারা যাওয়া বেশিরভাগ শিশুই খালিপেটে লিচু খেয়েছিল। এর ফলে শরীরে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান পত্রিকা ‘ল্যানচেটে’ এ বিষয়ে গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, খালিপেটে বেশি পরিমাণে লিচু খেলে শিশুর শরীরে বিষ তৈরি হয়। এর ফলে সুস্থ-সবল শিশুর হঠাৎ খিঁচুনি আর বমি শুরু হয়। তারপরেই জ্ঞান হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

গবেষণা বলছে, লিচুতে হাইপোগ্লাইসিন নামে একটি রাসায়নিক থাকে, যা শরীরে শর্করা তৈরি রোধ করে। খালিপেটে অতিরিক্ত লিচু খেলে শিশুদের শরীরে শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত কমে গিয়ে তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা। যেসব শিশু আগের রাতে খাবার খায় না কিংবা কম খায়, তাদের পরের দিন ভোরে খালিপেটে লিচু দেয়া ঠিক নয়।

এ ছাড়া চাষের সময় লিচুতে প্রচুর বিষ প্রয়োগ করা হয়। রং চড়ানোর জন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। ভাইরাসবাহিত পোকা-মাকড়ও লিচুকে বিষাক্ত করে তুলতে পারে। ফলে এসব লিচু খেলে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়।

এজন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের অবশ্যই রাতের খাবার ঠিকমতো খেতে হবে এবং লিচু থাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। এ বিষয়ে মা-বাবাকে সবচেয়ে সচেতন হতে হবে। আপনার শিশুর সুরক্ষায় নিজে সতর্ক থাকুন, অন্যদেরও সতর্ক রাখুন।

আইএম

 

শিশু-স্বাস্থ্য: আরও পড়ুন

আরও