রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও জটে

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও জটে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:১৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও জটে

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার কিভাবে মৃত্যু হয়েছে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। মৃত্যুর আগে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কিনা, এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

রুম্পার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, নিহত রুম্পার হাত, পা, ও কোমরসহ শরীরের কয়েক জায়গায় ভাঙা ছিল। ভবন থেকে পড়ে মারা যাওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা তা জানতে আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের পাশে তিনটি ভবন আছে। এগুলোর যেকোনো একটা থেকে পড়ে রুম্পা মারা গেছেন। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত আছে। তবে ইনজুরিগুলো দেখে মনে হচ্ছে উঁচু কোনো জায়গা থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। তার শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে।

এর আগে গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে রুম্পার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেছে।

রুম্পার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। রমনা থানার ওসি মনরুল জানান, নিহতের নাম রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা। তার বাবার নাম রোকন উদ্দিন। তিনি হবিগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। রুম্পার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। পরিবারের সবাই রাজধানীর মালিবাগ শান্তিবাগ এলাকায় থাকেন।

রুম্পার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ওই থানার এসআই আবুল খায়ের। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর রুম্পা বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। সঙ্গে নিজের নিজের মোবাইল ফোনটিও নেননি তিনি। উঁচু থেকে পড়ে শরীরের যে ধরনের জখম হয়, রুম্পার শরীরে সে ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রুম্পাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রুম্পার মৃত্যুর বিষয়টি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয় পুলিশের কাছে। এজন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে তারা। এমনটি জানিয়েছেন রমনার ওসি মনিরুল। তিনি বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে হত্যা মামলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত করছেন রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ ৬৮ সিদ্ধেশ্বরীর সামনের রাস্তা থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। এর আগে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণীর মেরুদণ্ড, বাঁ হাতের কনুই ও ডান পায়ের গোড়ালি ভাঙা। মাথা, নাক, মুখে জখম এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। বুকের ডান দিকে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।

এমকে/এসবি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও