'লোন উলফ' হামলার পরিকল্পনা ছিল আনসার আল ইসলামের

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

'লোন উলফ' হামলার পরিকল্পনা ছিল আনসার আল ইসলামের

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:১১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

'লোন উলফ' হামলার পরিকল্পনা ছিল আনসার আল ইসলামের

'লোন উলফ' হামলার পরিকল্পনা করতে রাজধানীর উত্তরায় বৈঠকে মিলিত হয়েছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনার আগেই উত্তরা থেকে চারজন এবং গাজীপুর ও সাতক্ষীরা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪।

শুক্রবার বিকাল তিনটা থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত দুইটি টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাররা হলেন- শফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির (২১), ইলিয়াস হাওলদার ওরফে খাত্তাব (৩২), ইকরামুল ইসলাম ওরফে আমীর হামজা (২১), আমীর হোসাইন ওরফে তাওহীদি জনতার আর্তনাদ (২৬), শিপন মীর ওরফে আব্দুর রব (৩৩) ও ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আব্দুর রহমান (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই, মোবাইল, ল্যাপটপ ও জঙ্গিবাদী ট্রেনিংসহ বিভিন্ন কনটেন্ট জব্দ করা হয়।

শনিবার দুপুরে কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, আটকদের সবাই ২-৫ বছর ধরে আনসার-আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত। তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপক্ষে। অর্থাৎ তারা যেকোনো মূল্যে কথিত ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বলে মনে করছে, তাদেরকেই টার্গেট মনে করছে জঙ্গি সংগঠনটি।

আনসার আল ইসলাম বর্তমানে মূলত দুই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথমত মোটিভেশনাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সদস্য বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও তারা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দ্বিতীয়ত, তারা মনে করে সবাইকে হত্যা করে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তবে যারা সরাসরি ইসলামী রাজনীতির বিরোধিতা করে, যারা নাস্তিক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় সংগঠনের সদস্যরা।

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক আরো বলেন, অতীতের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আনসার-আল ইসলামের সদস্যরা টার্গেট ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় না। তারা এক্ষেত্রে সাধারণত চাপাতি ব্যবহার করে থাকে। সদস্যরা কোনো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া কখনো এক হয় না। একে অন্যের সঙ্গে গোপন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

বড় ধরনের কোনো নাশকতা ‘লোন উলফ’ হামলার পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা উত্তরায় বৈঠকে মিলিত হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের কোনো কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে এসব ঘটনাকে তারা ‘জায়েজ’ বলে মনে করে।

সুনির্দিষ্ট কোথায় হামলা করা হতো, এ বিষয়ে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান মোজাম্মেল হক।

তিনি আরাে জানান, আনসার-আল ইসলামের এই সদস্যরা বিভিন্ন গোপন অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে থাকেন। বড় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া সাধারণত তারা কখনো একসঙ্গে জড়ো হয় না। নিজেদের মধ্যে পরিচিত না হয়েই তারা ‘কাটআউট’ পদ্ধতিতে চলাচল করে সংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

আটকদের মধ্যে সালমান মুক্তাদির দেশব্যাপী অনলাইনে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। আব্দুর রহমান ঢাকা বিভাগের এবং আমির হামজা খুলনা বিভাগের সংগঠনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

পিএসএস

আরও পড়ুন...
আনসার আল ইসলামের ৬ সদস্য গ্রেফতার

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও