‘জঙ্গিবাদের রিক্রুটাররা ইন্টারনেটে আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিচ্ছে’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘জঙ্গিবাদের রিক্রুটাররা ইন্টারনেটে আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিচ্ছে’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

‘জঙ্গিবাদের রিক্রুটাররা ইন্টারনেটে আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিচ্ছে’

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি এখনো কমে নাই, তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় ঝুঁকি কিছুটা কম বলে মন্তব্য করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে তিনি এ কথা বলেন।

‘ঢাকা পিস টক’ শীর্ষক এক প্রোগ্রামের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে এই মিট দ্য প্রেসের আয়োজন করা হয়।

ইউএসএআইডি এর সহযোগিতায় সেন্টার ফর সোস্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন(সিসার্ফ) নামক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানক এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, যারা মানুসিকভাবে দুর্বল, তারাই জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়ছে। এই তালিকায় তরুণরা বেশি ঝুঁকিতে। সামাজিক, রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে তরুণরা বিপথে চলে যাচ্ছে। বৈষম্য না কমলে জঙ্গিবাদের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এখন যারা (জঙ্গি) গ্রেফতার হচ্ছে তারা কেউ কেউ আগে থেকেই ছিল। আবার কেউ কেউ নতুন করে র‍্যাডিকালাইজড হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। প্রতিনিয়িত জঙ্গিবাদের রিক্রুটার মটিভেটররা ইন্টারনেটে লুকরেটিভ ও এট্রাকটিভ প্যাকেজ দিচ্ছে। যাদের ভেতরে এন্টি বডি কম, মানসিকভাবে দুর্বল ও দেশপ্রেম নাই, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ নাই, মতাদর্শিক জায়গায় ধারণা নাই, টলারেন্স নাই, জীবনের বাস্তবতা যারা মেনে নিতে পারে না, শর্টকাট পথ খুঁজছে তারাই র‍্যাডিকালাইজড  হচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর জঙ্গিবাদ বিরোধী কর্মসূচি বেশি হচ্ছে, যা আগে খুব একটা ছিল না। আমাদের এটা আরও বাড়াতে হবে। আমাদের একটি জঙ্গিবাদ বিরোধী এন্টিবডি তৈরির কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সিসার্ফের নির্বাহী পরিচালক শবনম আজিম বলেন, গবেষণার ফল বলে, উগ্রবাদের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। কেননা একেক পরিস্থিতিতে এককভাবে উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো ছকেই এই উগ্রবাদকে সরলীকরণ করা যাবে না। সহিংস উগ্রবাদ বা এর ঘনীভূত রুপ সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদী জটিল কাজ কোনো সুনির্দিষ্ট বাহিনী, সংস্থা ও ব্যক্তির পক্ষেও সম্ভব না। এজন্য সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু যে ধর্মীয় উন্মাদনার কারণে সহিংস উগ্রবাদের ঘটনা ঘটছে তা কিন্তু নয়। নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মূল্যবোধ এরকম নানান বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। কী কারণে আমাদের তরুণরা সহিংস উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে তা নিয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণাই আমাদের লক্ষ্য।

শবনম আজিম বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যাতে উগ্রবাদে না জড়ায়, সেজন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দরকার পরিবারভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা। এরপর সামাজিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে উগ্রবাদ ও মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে সিসার্ফ সচেনতামূলক কাজটিই করতে চায়। যে কাজগুলো মানুষকে জঙ্গিবাদে নিয়ে যায় সিসার্ফ ‘ঢাকা পিস টক’ এর মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত করবে ও সমাধানের পথও দেখাবে।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও