বুয়েট-ঢাবির দেয়ালে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের চাপা কান্না (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বুয়েট-ঢাবির দেয়ালে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের চাপা কান্না (ভিডিও)

পরিবর্তন প্রতিবেদক: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলো যেন ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে। দেয়ালে দেয়ালে ফুঁটে উঠেছে ছাত্র রাজনীতির রোষানল, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের চাপা কান্নার চিত্র।

শনিবার দুপুর থেকে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই দেয়ালচিত্র (গ্রাফিতি) অঙ্কনের কাজ শুরু হয়। যদিও গত দুইদিন আগেই এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। তবে বৃষ্টির কারণে দেয়ালগুলো সাদা রং করার পর আর অঙ্কনের কাজ করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা।

বুয়েটের আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ঋতু প্রভা দেবী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আবরার ফাহাদ স্মরণে আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা বুয়েট, পলাশী ও শহীদ মিনার এলাকায় ২৪টি গ্রাফিতি আঁকার কাজ করছেন। দেয়ালচিত্রগুলোতে আবরার হত্যা ছাড়াও বিভিন্ন সময় রাজনীতির রোষানল, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের বিষয়গুলো প্রতীকীভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হচ্ছে।

 দেয়ালচিত্রগুলোতে চোখ বেধে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে নিরাপদে আছিস বলা, কচ্ছপের গতিতে বিচার কাজ এগিয়ে চলা, পারবেন আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে- আবরারের বাবার প্রশ্ন, হোক কলরব, মুষ্ঠি বাঁধা হাতে হোক প্রতিবাদ, চুপ করিয়ে রাখার চিহ্নসহ নানা বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

শুধু আবরার নয়, কলাভবনের দেয়ালে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে নির্যাতনের শিকার এহসান রফিকের রক্তাক্ত ও বিধ্বস্ত চেহারা। সহপাঠীর কাছ থেকে ক্যালকুলেটর ধার নেওয়া নিয়ে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধরের শিকার হন তিনি।

নির্যাতনে তার বাঁ চোখের কর্নিয়া গুরুতর জখম হয়, কপাল ও নাক ফেটে যায়। পরে নিরপত্তাহীনতার কারণে দেশ ছাড়েন। বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন তিনি।

এছাড়া কলাভবনের দেয়ালে স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবু বকরের চিত্রও।

২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্যার এ এফ রহমান হলে সিট দখল নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার এক দিন পর মারা যান আবু বকর। দিনমজুর বাবার ছেলে আবু বকর তৃতীয় সেমিস্টার পর্যন্ত সিজিপিএ-৪-এর মধ্যে ৩.৭৫ পেয়েছিলেন। চতুর্থ সেমিস্টারের ফল বের হওয়ার আগে তিনি খুন হন।

পিএসএস

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও