এক সময়ের জনপ্রিয় মোহামেডান ক্লাবেও ক্যাসিনো!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

এক সময়ের জনপ্রিয় মোহামেডান ক্লাবেও ক্যাসিনো!

পরিবর্তন প্রতিবেদক: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবগুলোর একটি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (ঢাকা)। একসময় ক্লাবটির সাদা-কালো জার্সি রক্তে কাঁপন ধরাত লাখো ফুটবলপ্রেমীদের। তখন বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মান অনেক উচুতে নিয়ে গিয়েছিল এই ক্লাবটি।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ঢাকার লীগে ১৯৫৭ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত অন্তত ১৯ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটিও বাদ যায়নি ক্যাসিনো বাণিজ্য থেকে। রোববার বিকালে এই ক্লাব থেকেও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম উদ্ধার করলো পুলিশ।

রোববার বিকাল তিনটা থেকে মতিঝিলের চারটি ক্লাবে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে অভিযানের খবর পেয়ে ক্লাবগুলোর লোকজন আগেই পালিয়ে গেছে।

মোহামেডানে পাওয়া গেছে দুটো রুলেট টেবিল, নয়টি বোর্ড, বিপুল পরিমান কার্ড, ১১টি ওয়্যারলেস সেট ও ১০টি বিভিন্ন ধরনের চাকু।

মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্যাসিনোবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে মতিঝিলের দিলকুশা, আরামবাগ, মোহামেডান ও ভিক্টোরিয়া ক্লাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে এসব ক্লাবে নিয়মিত ক্যাসিনো বসতো।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ায় অন্যান্য ক্লাবের ক্যাসিনোর সরঞ্জাম এনে এসব ক্লাবে রাখা হয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।  অভিযানে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম, নগদ টাকা ও মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। আরামবাগ, দিলকুশা ও মোহামেডান ক্লাবেও ক্যাসিনোর সন্ধান পাওয়া গেছে। সব মালামাল সিজ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মতিঝিলের ডিসি জানান, এখনো কাউকে আটক করা হয়নি, তবে যেভাবে হোক আমরা ক্লাবে ক্লাবে প্রবেশ করে অভিযান চালিয়েছি।

ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এসব ক্লাবের নিয়ন্ত্রক ছিলেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাবে অবৈধভাবে জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গুলশানে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

একই সময় ফকিরাপুলের ওই ক্লাবে অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্লাবে পাওয়া যায় মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামাদি। সেখান থেকে জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ অর্থও।

পরে ওই রাতেই ঢাকার আরও তিনটি ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসব ক্লাবে অবৈধভাবে জুয়ার আসর বসানোয় আরো ৩৯ জনকে আটক করা হয়, উদ্ধার করা হয় জুয়ার ২৩ লাখ টাকা।

ক্লাবগুলো হলো ফকিরাপুলের ঢাকা ওয়ান্ডারস ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীর আহমদ টাওয়ারের গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ। এরপর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কার্যক্রম শুরু হয়।

পিএসএস

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও