'প্রয়োজনে নিজে ওসি হয়ে থানায় বসবো'

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

'প্রয়োজনে নিজে ওসি হয়ে থানায় বসবো'

পরিবর্তন প্রতিবেদক: ৪:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

'প্রয়োজনে নিজে ওসি হয়ে থানায় বসবো'

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, থানায় যারা কাজ করছে তাদের আচরণের পরিবর্তন যদি কাঙ্খিত পর্যায়ে না হয়, তাহলে আমাদের সিনিয়র অফিসারদের থানায় বসাবো। প্রয়োজনে আমি নিজে থানার ওসি হবো ও আমার ডিসিদের থানায় ওসি হিসেবে বসাবো।

রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে 'থানার সেবার মানের ক্ষেত্রে নতুন কোন পরিকল্পনা আছে কিনা?' এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কমিশনার বলেন, সপ্তাহে অন্তত একদিন সিনিয়র অফিসাররা থানায় উপস্থিত থেকে মানুষের কথা শুনবেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ঢাকার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপ-কমিশনারদের (ডিসি) সঙ্গে বসেছিলাম। তাদের প্রয়োজনীয় ও কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশভীতি থেকে বের হতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবে থানায় গিয়ে যাতে কথা বলতে পারে, কোন রকম হয়রানি ছাড়া মামলা ও জিডি করতে পারে এবং থানা থেকে বের হয়ে যেন এই বোধটি হয় পুলিশ আন্তরিকভাবে আমাকে আইনি সেবা দিবে ও ন্যায় বিচার পাবো। প্রতিটি মানুষ যাতে এই বিশ্বাস নিয়ে থানা থেকে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাবো।  আমরা থানাকে গণমুখী ও জনবান্ধব করতে চাই।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। বিগত দশ বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে অনেক দূরে এগিয়ে গেছে।

'কোন নিরাপরাধ মানুষ যাতে পুলিশের হয়রানি বা চাঁদাবাজির শিকার না হয় অথবা পুলিশের সেবা পেতে কোন আর্থিক লেনদেন না হয় সে বিষয়ে আমি কঠোর থাকবো' বলেও প্রতিশ্রুতি দেন নতুন ডিএমপি কমিশনার।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কোন থানায় কোন ভিকটিম ও অপরাধের শিকার কোন ব্যক্তি যাওয়ার পরে যদি দুর্ব্যবহারের শিকার হন এবং বিষয়টি আমাদের নজরে আনা হয়, তাহলে তদন্তে সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। নিজেদের অন্যায় আচরণের জন্য আমাদের অফিসারদের রক্ষা করার চেষ্টা করবো না।

কমিশনার আরো বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজর রাখবো। ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নে ইতোমধ্যে ট্রাফিক বিভাগের অফিসারদের সাথে কথা বলে নির্দেশনা জারি করেছি।  ট্রাফিকের সিনিয়র অফিসারদের মাঠে থেকে কাজ করতে হবে। সকালে অফিস আওয়ারে ও বিকালে অফিস শেষের এই ব্যস্ত সময়ে ট্রাফিক অফিসার অফিসে থাকতে পারবে না। তারা এই সময়টা রাস্তায় থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। এই নির্দেশনা সঠিকভাবে পালনে আমি কঠোর থাকবো। ট্রাফিক পুলিশ এককভাবে কাজ করে কতটা উন্নত করতে পারবো তা জানি না। তবে ট্রাফিককে সহনীয় পর্যায়ে আনতে চেষ্টা করে যাবো। পরিস্থিতি যেমনই হোক আমরা দায়িত্ব পালন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক কাজ করবো।

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনে আপনার ভূমিকা কেমন হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিবাদ এমন একটি মতবাদ। যারা এই মতবাদে একবার বিশ্বাসী হয়, সেখানে থেকে তাদের ফিরিয়ে আনাটা দুরুহ। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে মানুষকে বোঝানোর জন্য বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসায় গিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আমাদের ধর্মীয় গুরুদের সাথে কথা বলছি, তাদের দিয়ে এই ভ্রান্ত মতবাদ থেকে মানুষকে বের করে আনার প্রচেষ্টা আমাদের আছে।

তিনি আরো বলেন, নতুন করে জঙ্গি তৈরি না হয় সেদিকে আমাদের নজরদারি রয়েছে। যারা ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে গেছে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা। আর যারা গ্রেফতার হয়ে জেলখানায় আছে তারা যখন জেল খানা থেকে বের হবে, তারা যাতে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে সেই কাউন্সিলিং করার প্রক্রিয়া আমাদের চলমান আছে।

সম্প্রতি পুলিশকে টার্গেট করে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, এই বিষয়ে আপনার কি দিকনির্দেশনা রয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কমিশনার বলেন, আমরা এসব ঘটনার প্রতিরোধ ও সতর্কতামূলক কিছু ব্যবস্থা রেখেছি। পাশাপাশি যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে ঢাকার নতুন পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা মাদকের সাপ্লাই রুখতে চেষ্টা করি। আসলে শুধু সাপ্লাই রুখে পৃথিবীর কোন দেশে মাদক নির্মূল করা কঠিন হয়। যারা মাদক খাচ্ছে তারা কারও না কারও সন্তান। আপনার সন্তানকে যদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, পাশাপাশি আমরা মাদকের সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে মাদক নির্মূল সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, আমি অভিভাবকদের অনুরোধ করবো, আপনার সন্তান যদি মাদকাসক্ত হয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা নিন। মাদকের ব্যাপারে আমরা সবসময় জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবো। পুলিশের কোন সদস্য মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে মাদক ব্যবসায়ীর মত তার বিচার চলবে।

পিএসএস

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও