অবাধে টেলিযোগাযোগ-ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন রোহিঙ্গারা

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

অবাধে টেলিযোগাযোগ-ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন রোহিঙ্গারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৪:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

অবাধে টেলিযোগাযোগ-ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গাদের টেলিযোগাযোগ-ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কিত বিটিআরসির নির্দেশনা অকার্যকর। রোহিঙ্গারা অবাধে অবাধে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।

সোমবার সকাল বেলা সাড়ে  ১১টায় রাজধানীর ২৩/২ তোপখানা রোডস্থ নির্মল সেন মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গাদের টেলিযোগাযোগ/ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কিত সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ উত্তর’ সংবাদ সম্মেলনে তথ্য জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করবেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।  উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের মহাসচিব এড. আবু বক্কর সিদ্দিক, সবুজ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, এনপিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আলতাব, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার, জাতীয় উন্নয়ন পার্টির সভাপতি মাহাবুব খোকন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ, শরীফুল ইসলাম প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের টেলিযোগাযোগ/ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কিত বিটিআরসির নির্দেশনা কার্যকর হয়নি বলেই আমরা প্রত্যক্ষ করছি। গত ৩১ আগস্ট গণমাধ্যমে ‘অবৈধভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গা’ শিরোনামে একটি বিবৃতি পাঠাই। যা জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে বিভিন্ন গণমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি সরকার আমলে নিয়ে বিটিআরসিকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। বিটিআরসি অপারেটরদেরকে একটি নির্দেশনা দেয় যাতে বলা হয়, আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোন প্রকার সিম বিক্রি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সিম ব্যবহার বন্ধ তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল সুবিধাদি প্রদান না করা সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিটিআরসিকে অবগত করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

পরের দিন আরেক নির্দেশনায় বলা হয় সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ৩জি ও ৪জি সেবা বন্ধ থাকবে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ থাকবে। একটি অবৈধ সেবা গ্রহণ করে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী নাগরিকরা সংগঠিত হচ্ছে, অপরাধ করছে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এমতাবস্থায় তাদেরকে ৭ দিন দূরে থাক এক ঘণ্টার জন্য বিটিআরসি টেলিযোগযোগ ও ইন্টারনেট সেবা দিতে পারে কি না বা তাদের সেই ক্ষমতা আছে কি না তা আমাদের প্রশ্ন।

সেখানে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বৈধ নাগরিকদের সিম নিবন্ধনের সময় শেষ হবার পর রাত ১২ টার পর নিবন্ধন করতে ব্যর্থ সকল সিম বন্ধ করা হয়েছিল। গত দুই মাস পূর্বেও ১৫ অধিক ২৩ লক্ষ সিম বন্ধ করা হল। অথচ অবৈধ নাগরিকদের বেলায় ৭ কার্যদিবসেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেল না, তা আমরা জানতে চাই।

৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে ১২টি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন আমাদের প্রতিনিধি দল। গত ৩ দিন যাবত তারা ক্যাম্প পরিদর্শন কালে লক্ষ্য করেছেন রোহিঙ্গারা অবাধে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। যদিও নির্দেশনার প্রথম দিন ইন্টারনেটের গতি অনেক জায়গায় কম ছিল। ক্যাম্প পরিদর্শনকালে বিটিআরসি’র কোন কর্মকর্তাকে আমাদের প্রতিনিধিরা লক্ষ্য করেন নাই। রিটেইলারদের ব্যবসায় কোন মন্দা আসেনি। অর্থাৎ বিটিআরসির নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি, এতে কোন সন্দেহ নাই। এতে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

রোহিঙ্গাদের অবৈধ টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধে কিছু পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি। সেগুলো হলো- রোহিঙ্গদের হাতে বাংলাদেশি যেসকল নাগরিক তাদের নিবন্ধিত সিম বিক্রয় করেছেন পাশাপাশি যে সকল অপারেটর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিম বিক্রয় করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে; রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সকল প্রকার কর্পোরেট সিম বন্ধ করতে হবে; রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারী/আধা সরকারী/স্বায়ত্তশাসিত ও বৈধ এনজিও সমূহের কর্মরত ব্যক্তিদের সিম সক্রিয় রেখে বাকি সকল সিমের সংযোগ নিষ্ক্রিয় করতে হবে; পূর্বের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যবহৃত টেলিকম সেবা বুথ চালু রাখতে হবে; অবৈধ ভাবে টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ ও সীমান্ত ওপারে নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে হবে; ৭ কার্য দিবসে বিটিআরসির নির্দেশনা কেন বাস্তবায়ন হল না, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি; নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোন গাফিলতি থাকলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিকেও চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে; এবং প্রয়োজনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্বাহী হাকিম দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যায় কি না এ ব্যাপারে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্ততে এসব তথ্য জানানো হয়।

এইচকে/

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও