সাবধান! বাসে বসে হাড়ির খবর বলবেন না

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

সাবধান! বাসে বসে হাড়ির খবর বলবেন না

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

সাবধান! বাসে বসে হাড়ির খবর বলবেন না

তারা প্রত্যেকেই যাত্রী পরিবহনের সাথে জড়িত। তাদের মধ্যে কেউ বাস ড্রাইভার, কেউ কন্ডাক্টর, কেউবা অটোরিকশা চালক। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তারা কাজ করেন। এরপর রাত যত গভীর হয় ততই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন এই পরিবহন শ্রমিকরা। 

ছিনতাইয়ের কাজের সুবিধার্থেই তারা সবাই এই পেশা বেছে নিয়েছেন। দিনের আলোতে নিজেদের কাজের ফাঁকে যাত্রীবাহী বাসে নিয়মিত যাতায়াত করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের গতিবিধি অনুসরণ করেন তারা। কোন প্রতিষ্ঠান কবে বেতন-ভাতা দিবে সেই খোঁজ খবরও রাখেন।

বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় যাত্রীর কাছে কি পরিমাণ টাকা আছে এবং কোন মূল্যবান সামগ্রী আছে কিনা সেটা অনুমান করার চেষ্টা করে। কোনো যাত্রীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা অথবা মূল্যবান সামগ্রী আছে জানতে পারলে বাস থেকে সেই যাত্রী নেমে যাওয়ার পরপরই তারা দলের অন্য সদস্যদের যাত্রীর বেশ-ভূষা ও কোথায় নেমেছে তার বিস্তারিত জানিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে চক্রের অন্য সদস্যরা টার্গেটকে শনাক্ত করে এবং নির্জন কোনো স্থানে যাওয়া মাত্রই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়।

এছাড়া সংঘবদ্ধ এই ছিনতাইকারী চক্রের যেসব সদস্য অটোরিকশা চালায়, তারা এলাকায় অপরিচিত যাত্রীদের কৌশলে নির্জনে নিয়ে অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সব লুট করে রেখে দেয়। এক্ষেত্রে অটোরিকশা চালক যাত্রী উঠানোর পর মোবাইল ফোনে কথা বলার ফাঁকে কৌশলে গন্তব্য ও যাওয়ার রাস্তা চক্রের অন্যান্যদের জানিয়ে দেয়।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে কামরুল ইসলাম হত্যার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই ভয়ঙ্কর ছিনতাই চক্রের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। গ্রেফতার করা হয়েছে চক্রটির তিন সদস্যকে, যারা জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের জন্য আরএফএল কোম্পানির সিলেট জেলার জেনারেল ম্যানেজার কামরুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেফতাররা হলেন- আব্দুল হক রনি ওরফে বাবু (১৯), মোঃ সুজন ওরফে শাহজালাল (২১) ও মোঃ আউয়াল হাওলাদার (২৬)।

রোববার দিবাগত রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদ নগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে কামরুল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১ টি ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু, ১ টি অটোরিকশা এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সোমবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেঃ কর্ণেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম।

তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর কলেজ গেইট এলাকায় মো. কামরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে একটি ছিনতাইকারী চক্র। ওই ঘটনায় নিহতের ছোটভাই মতিউর রহমান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন।

নিহত কামরুল ইসলাম নাটোর জেলার সদর থানার শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আবুল কাসেমের বড় ছেলে। তিনি আরএফএল কোম্পানির সিলেট জেলার জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার দুই দিন আগে কামরুল সাপ্তাহিক ছুটিতে নাটোরে তার নিজ বাড়িতে যান। পরবর্তীতে ঢাকায় আরএফএলের প্রধান অফিসে মিটিংয়ে অংশ নিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়ি থেকে রওনা দেন। পরদিন রাতে টঙ্গীর দত্তপাড়ায় তার কর্মস্থলের সহকর্মীদের সাথে রাত্রিযাপনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তিনি।

পথে কলেজ গেইট এলাকায় অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে অতর্কিত আক্রমণ করে। তারা কামরুলকে ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা, ল্যাপটপ ও মোবাইলফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ কামরুলের লাশ উদ্ধার করে।

সারওয়ার-বিন-কাশেম আরো বলেন, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর র‌্যাব-১ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

রোববার দিবাগত রাতে ওই ছিনতাইচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ছিনতাইয়ের জন্য কামরুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তারা প্রত্যেকে যাত্রী পরিবহনের সাথে জড়িত। গ্রেফতারদের মধ্যে বাবু বাসের চালক, আউয়াল অটোরিকশা চালক ও সুজন বাসের কন্ডাক্টর। ছিনতাই কাজের সুবিধার জন্য তারা এসব পেশা বেছে নিয়েছে।

লে. কর্ণেল সারওয়ার বলেন, মাঝে মাঝে এই চক্রটি মোটর সাইকেল দিয়েও ছিনতাই করে থাকে। সাধারণ পথচারীরা মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় এবং নারী পথচারীরা স্বর্ণালংকার পরে রাস্তা দিয়ে চলাফেরার সময় মোটরসাইকেল থেকে থাবা দিয়ে তারা এসব ছিনিয়ে নেয়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও