নাগরিক তথ্য সংগ্রহ হবে সিআইএমএস অ্যাপসে

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

নাগরিক তথ্য সংগ্রহ হবে সিআইএমএস অ্যাপসে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

নাগরিক তথ্য সংগ্রহ হবে সিআইএমএস অ্যাপসে

নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহে সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) নামে একটি মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধন করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

আগে পুলিশকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করতে হতো। এখন থেকে এই অ্যাপসটির মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেরাই নিজেদের তথ্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দিতে পারবেন। পরে থানা পুলিশের গ্রাউন্ড ভেরিফিকেশনের পর এসব তথ্য সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার এ অ্যাপসের উদ্বোধন করেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এর বাস্তব একটি প্রয়োগ হচ্ছে ডিএমপির সিআইএমএস মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। সোমবার থেকে অ্যাপসটি গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যাবে। নাগরিকরা অ্যাপসটি নিজেদের স্মার্টফোনে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, আগে থানা পুলিশ ম্যানুয়ালি নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করত। পরে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে আমরা সিস্টেমে এন্ট্রি দিতাম। এতে লোকবল ও সময় দু’টিই বেশি লাগত। কিন্তু এখন এ অ্যাপসের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য দিতে পারবেন। পরে থানা পুলিশ গ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন করার পর এ তথ্য সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তি করা হবে। তবে এখনো ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি এ নাগরিক তথ্য সংগ্রহের কাজ করা যাবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২০১৬ সালে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু করি। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলছি, আজ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর ৭২ লাখ নাগরিকের তথ্য আমাদের এ সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যে সিআইএমএস তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছি এর কারণে নগরীতে কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে বাসা ভাড়া নিতে পারেনি এবং বাসা তৈরিও করতে পারেন না। কোনো বাসায় যদি অপরাধ করে অপরাধী পালিয়ে যায় তাহলে আমরা নাগরিক তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে তাকে সহজেই চিহ্নিত করতে পারি এবং তাকে গ্রেফতার করতে পারি।

ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, ২০১৬ সালের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর ঢাকা মহানগরীতে তেমন কোনো বড় ধরনের জঙ্গিদের আস্তানা গড়ে ওঠেনি এবং জঙ্গিরা আস্তানা তৈরি করতে পারেনি। এর অন্যতম একটি কারণ হল, নাগরিক ডাটাবেজ থাকার কারণে জঙ্গিরা ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া নিতে পারেনি বা অবস্থান করতে পারেনি। জঙ্গি দমনে এ সিস্টেম একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। অপরাধ ডিটেকশন এবং প্রিভেনশনের ক্ষেত্রে এ তথ্যভাণ্ডার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি ও চাঁদাবাজি দমনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

যেভাবে অ্যাপস ডাউনলোড করা যাবে

ইন্টারনেট সংযোগ থাকা স্মার্ট ফোন দিয়ে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে CIMS DMP লিখে সার্চ দিলেই এই অ্যাপসটি চলে আসবে। এরপর সেটি ডাউনলোড দিতে হবে। ডাউনলোডের পর মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন ইন বা লগ ইন করতে হবে।

লগ ইনের পর নাগরিকরা তথ্য ফরম পূরণ করতে পারবেন। এতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তাদের নাম, গৃহপরিচারিকার নাম, গাড়িচালকের নাম, এনআইডি নম্বরসহ আরও কিছু তথ্য ইনপুট দিতে হবে। এরপর সাবমিট করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট থানা সেটি কোয়ারি শেষে ফিরতি বার্তায় নাগরিককে জানিয়ে দেবে তার তথ্য ফরমটা যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। আর যদি কোনও তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয় তাও জানানো হবে। তথ্য ফরম যথাযথভাবে পূরণ হলে সেটি ডিএমপির প্রধান সার্ভারে জমা থাকবে।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও