৫ মাসে ৩ হামলা, পুলিশ কেন টার্গেট? 

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

৫ মাসে ৩ হামলা, পুলিশ কেন টার্গেট? 

প্রীতম সাহা সুদীপ: ৩:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

৫ মাসে ৩ হামলা, পুলিশ কেন টার্গেট? 

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় কমপক্ষে ৫ জন পুলিশ সদস্য ও দুইজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আর প্রতিটি হামলারই দায় স্বীকার করেছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, আইএসের নাম ভাঙিয়ে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই বোমা হামলাগুলো চালাচ্ছে। পুলিশের মনোবল দুর্বল করার জন্যই এ ধরণে হামলা চালিয়ে ভীতির সঞ্চার করা হচ্ছে। তবে এই তিনটি বোমা  হামলার ঘটনা একটি আরেকটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সবশেষ শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টা ২০ মিনিটে রাজধানীর সায়েন্সল্যাবের সড়ক দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের প্রটোকলের গাড়ি যাওয়ার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

হামলায় পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন ও ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আমিনুল আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শাহাবুদ্দিনের দুই পায়ে স্প্লিন্টারের আঘাত লেগেছে। আর আমিনুল হাতে আঘাত পেয়েছেন।

চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্য শাহাবুদ্দিন জানান, তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের প্রোটোকলে ছিলেন। সায়েন্সল্যাবের রাস্তায় মন্ত্রীর গাড়ি যানজটে আটকা পড়লে তিনি গাড়ি থেকে নেমে ট্রাফিক কনস্টেবল আমিনুলের সাথে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছিলেন। এমন সময় তাদের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তারা দুইজনেই আহত হন।

হামলার পর জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ জানায়, হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে আইএস।

ঘটনার পর রাতেই আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে হাসপাতালে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। সেখানে কিছু আলামত দেখতে পেয়েছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে বোমাটি হাতে বানানো।

এর আগে রাজধানীর মালিবাগ ও গুলিস্তানে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার সঙ্গে এবারের ঘটনার সামঞ্জস্যতা রয়েছে। সারাদেশের সকল পুলিশদের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বলা হয়েছে।

সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মন্ত্রীর প্রটোকলে থাকা পুলিশ সদস্য আহত হলেও ধারণা করছি পুলিশ বক্সে থাকা পুলিশ সদস্যরাই হামলাকারীদের মূল টার্গেট ছিল। যেখানে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে তার ১০ গজ পেছনে পুলিশ বক্স। ভাগ্যক্রমে রোড ডিভাইডারের কাছাকাছি ককটেলটি বিস্ফোরিত হওয়ায় স্প্লিন্টার দূরে গিয়ে আঘাত করতে পারেনি। যে কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।

পুলিশ কেন টার্গেট?

পুলিশ কেন টার্গেট এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, হলি আর্টিজানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে রুখে দিয়েছে সে কারণেই পুলিশ টার্গেট হতে পারে।

অপরাধ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশের ওপর দুই কারণে হামলা হতে পারে। একটি হচ্ছে সাধারণ মানুষের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়েছে তাতে জঙ্গিরা সুবিধা করতে পারছে না। ফলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চাইছে। আরেকটি হচ্ছে, দেশে রাজনৈতিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট রয়েছে। জঙ্গিরা সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইছে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে পুলিশ বক্সের পাশে হাতে তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেই বোমা বিস্ফোরণে ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল ইসলাম ও লিটন গুরুতর আহত হন। এছাড়া আশিক নামে কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্যও আহত হন। ঘটনার পর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর গত ২৬ মে রাজধানীর ব্যস্ততম মালিবাগ মোড়ে পেট্রোল পাম্পের অদূরে ফ্লাইওভারের পাশে পুলিশের গাড়িতে বোমা বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে পুলিশের নারী এএসআই রাশেদা বেগম, লাল মিয়া নামে একজন রিকশাচালক ও শাহনাজ শারমিন নামে এক পথচারী আহত হন।

এছাড়া ২৩ জুলাই রাতে রাজধানীর পল্টন ও খামাড়বাড়ি পুলিশ বক্সের কাছে ফেলে রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ঘটনার পরই দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশ করে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

পিএসএস

আরও পড়ুন...
সায়েন্সল্যাবে ককটেল বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য আহত
পুলিশের ওপর ককটেল হামলা, আইএসের দায় স্বীকার

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও