গ্রেনেড হামলার সময় পুলিশের যত বিতর্কিত ভূমিকা

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

গ্রেনেড হামলার সময় পুলিশের যত বিতর্কিত ভূমিকা

প্রীতম সাহা সুদীপ ১:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৯

গ্রেনেড হামলার সময় পুলিশের যত বিতর্কিত ভূমিকা

হঠাৎ বিস্ফোরণ। চারিদিকে ছোটাছুটি। একের পর এক গ্রেনেড হামলা। মুহূর্তেই বয়ে গেলো রক্তের বন্যা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শরীরের অঙ্গ খসে পড়লো অনেকের। তখন চারদিকে শুধুই লাশ আর কান্নার আহাজারি। বলছি ইতিহাসের কলঙ্কিত এক অধ্যায় ২১ আগস্টের কথা।

ঘড়ির কাঁটায় ঠিক পাঁচটা ২২ মিনিট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে বক্তৃতা শেষ করে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগুতে থাকলেন মঞ্চের সিঁড়ির দিকে। মুহূর্তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে লাগল একের পর এক গ্রেনেড। আর জীবন্ত বঙ্গবন্ধু এভিনিউ মুহূর্তেই পরিণত হলো মৃত্যুপুরীতে।

ওই হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং আহত হন অন্তত আরো ৫০০ জন। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা। বুধবার সেই বিভীষিকাময় একুশে আগস্টের ১৫তম বার্ষিকী।

গত বছরের ১০ অক্টোবর একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় দেন বিচারিক আদালত।

এই রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরির কাজ চলছে।

রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে চালানো হয় নৃশংস হামলা:

আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে বিএনপি-জামায়াত তথা চার দলীয় জোট সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নৃশংসতম এই গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল।

২০১১ সালের ৩ জুলাই আদালতে এই মামলায় যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল, তাতে আসামিদের রক্ষায় আলামত নষ্ট করা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেয়া এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, হাওয়া ভবন ও আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসা সহ ১১টি স্থানে হামলার ষড়যন্ত্র হয় এবং ৭টি স্থানে গ্রেনেড মজুদ রাখা হয়।

তিনি বলেন, ‘আব্দুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবন, আসামি আরিফ হাসান সুমন, মোহাম্মদপুরে আব্দুল মাজেদ ভাটসহ সাত বাসায় গ্রেনেড মজুদ করা হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা।’

গ্রেনেড হামলার সময় পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা:

গ্রেনেড হামলা মামলার চার্জশিটে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক ডিসি (পূর্ব) মো. ওবায়দুর রহমান খান ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেনেড আক্রমণ চালানোর সুবিধার্থে ও রক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেননি। এ ঘটনায় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পরও সেটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেননি। আদালতের অনুমতি না নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে গ্রেনেডগুলো ধ্বংস করিয়েছেন।

তাছাড়া আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে লাঠিচার্জ, টিয়ার সেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর কাজে বাধা তৈরি করেন। হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা না করে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা ও গ্রেফতার করেন। তাদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠান। ঘটনার পর ইচ্ছাকৃতভাবে হতাহতদের আত্মীয়স্বজন বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে এজাহার না নিয়ে পুলিশকে বাদী করিয়ে মামলা রেকর্ড করিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সংলগ্ন পশ্চিম পাশের এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) আসামি খান সাঈদ হাসান এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের সহজে গ্রেনেড হামলার সুবিধা করে দিয়েছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি ঘটনাস্থলের পাশে তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আয়োজিত আওয়ামী লীগের জনসভা ও র‍্যালির জন্য কোনও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেননি। ফলে ঘটনা ঘটিয়ে আসামিরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

শুধু তাই নয়, তখনকার পুলিশ কমিশনার ও পরবর্তীতে আইজিপি (অব.) আশরাফুল হুদা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনার দিন তড়িঘড়ি করে বিদেশ চলে যান।

অন্যদিকে সে সময়ের পুলিশ প্রধান শহুদুল হক সেদিনের সমাবেশের জন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার বিষয়ে কোনও প্রকার খোঁজখবর নেননি। গ্রেনেড হামলার পর তিনি একবারের জন্য ঘটনাস্থলে যাননি। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ ও গ্রেফতারের বিষয়ে কোনও প্রকার নির্দেশনা ও উদ্যোগ নেননি।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও