গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিতরা কে কোথায়?

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিতরা কে কোথায়?

প্রীতম সাহা সুদীপ ১:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৯

গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিতরা কে কোথায়?

ইতিহাসের জঘন্যতম, বর্বরোচিত ও নৃশংস ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী বুধবার। ২০০৪ সালের ওই দিনে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় ২৪জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং আহত হন অন্তত আরো ৫০০ জন। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বছরের ১০ অক্টোবর একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় দেন বিচারিক আদালত। এই রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরির কাজ চলছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে বিএনপি সরকারের সে সময়কার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর তাকে আটক করা হয়। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এরই মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবরকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান এবং এএসপি আব্দুর রশিদ বর্তমানে কারাগারে আছেন।

বিএনপি সরকারের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়া তখন তিনি টাঙ্গাইল জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উপমন্ত্রী থাকলেও তারেক রহমানের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ছিলেন গ্রেনেড হামলা মামলার আরেক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ মামলায় তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়।

মামলার মূল আসামি নিষিদ্ধ হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানেরও এরই মধ্যে মৃত্যদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সাবেক বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলায় সর্বোচ্চ আদালত হান্নানের মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং পরে তা কার্যকর হয়।

এছাড়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর তাকে আটক করা হয়। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআই-এর প্রধান ছিলেন রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা বা এনএসআই-এর সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিমও গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি। মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক গ্রেনেড হামলার মামলায় দীর্ঘ সময় জামিনে থাকলেও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অন্যদিকে মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার মধ্যে সে সময়কার পুলিশ প্রধান শহুদুল হক ও ঢাকার পুলিশ কমিশনার আশরাফুল হুদা বর্তমানে জামিনে আছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তাদের দুই জনেরই দুই বছরের সাজা হয়। রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন চান তারা। পরে হাইকোর্ট তাদের ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে তাতে ‘নো অর্ডার’দেন চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান। ফলে পুলিশের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে।

পলাতক আসামিদের মধ্যে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। এছাড়া, মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদ ও তার ছোট ভাই রাতুল বাবু দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।

সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবে আছেন এবং হারিস চৌধুরী বিভিন্ন সময় যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য নেই বাংলাদেশের কাছে।

পলাতকদের মধ্যে সাবেক মেজর জেনারেল এটিএম আমিন আমেরিকায়, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম কানাডায় অবস্থান করছেন। এছাড়া  মোহিবুল মুস্তাকিন ও তার ভাই আনিসুল মুরসালিন বর্তমানে ভারতে তিহার জেলে রয়েছেন।

পিএসএস/এএসটি

 

রাজধানী: আরও পড়ুন

আরও